হাজিরা এড়াতেই কালীঘাটের বাড়িতে সিআইডি, নোটিস দিয়ে করা হলো ভিডিওগ্রাফি
.jpeg.webp?w=948&resize=948,533&ssl=1)
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনে বিধায়কদের সই জাল করার মামলায় রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা চরমে। ভবানী ভবনে সিআইডি দপ্তরে হাজিরা এড়িয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে হানা দিলেন রাজ্য গোয়েন্দারা। সেখানে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর সাংসদের বাড়িতে নোটিস দেওয়ার পাশাপাশি গোটা বাড়ি ভিডিওগ্রাফি করেন তদন্তকারীরা।
এর আগে, সই জাল মামলার তদন্তে আজ, সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে তলব করা হয়েছিল। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সিআইডির কাছে ১৫ দিনের সময় চেয়ে আবেদন জানান ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। আইনজীবীদের পরামর্শে এই চিঠি পাঠানোর পরেই সক্রিয় হয়ে ওঠে সিআইডি। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, তদন্তের স্বার্থে কোথাও কোনো খামতি না রাখতেই এই ভিডিওগ্রাফির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সবটাই ক্যামেরাবন্দি করা হচ্ছে।
জনরোষের জেরে অসুস্থতা ও হাজিরার আবেদন
গত শনিবার সিআইডির নোটিস পাওয়ার পর সোনারপুরে মৃত দলীয় কর্মীর বাড়ি যাচ্ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় পথে তিনি নজিরবিহীন জনরোষের মুখে পড়েন। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম, জুতো ও ইট ছোড়া হয়, এমনকি তাঁর জামা ছিঁড়ে মারধরও করা হয়। মাথায় হেলমেট থাকায় বড়সড় আঘাত থেকে বাঁচলেও, ঘটনার পর দুটি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা করাতে হয়। বর্তমানে কালীঘাটের বাড়িতেই হাসপাতালের পরিকাঠামো তৈরি করে বিশ্রামে রয়েছেন তিনি। তীব্র ব্যথানাশক ওষুধ চলায় তাঁর পক্ষে আজ ভবানী ভবনে সশরীরে হাজিরা দেওয়া সম্ভব ছিল না বলে সিআইডিকে চিঠিতে জানানো হয়।
তদন্তের সূত্রপাত ও রাজনৈতিক প্রভাব
এই ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনে তৃণমূল বিধায়কদের স্বাক্ষরে গরমিল ধরা পড়াকে কেন্দ্র করে। তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা স্পিকারের কাছে এই সই জালের অভিযোগ জানান। এর ভিত্তিতে বিধানসভার সচিবালয় হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করে। পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘটনার গুরুত্ব বুঝে মামলাটি সিআইডির হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এদিকে এই অভিযোগের জেরে ঋতব্রত ও সন্দীপনকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সই জাল কাণ্ডে সিআইডির এই অতি-সক্রিয়তা এবং অভিষেকের বাড়িতে ভিডিওগ্রাফির ঘটনা রাজ্যের শাসক শিবিরের ওপর চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বে ভাঙন এবং আইনি লড়াই আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।