হাতছাড়া হচ্ছে দল, পওয়ার-উদ্ধবের পরিণতি এড়াতে কতটা তৈরি ‘বড় খেলোয়াড়’ মমতা!

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই চরম রাজনৈতিক ডামাডোলে ভুগছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। সই জাল কাণ্ডে দলের নাম জড়ানোয় তীব্র অস্বস্তির মুখে পড়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব। পরিস্থিতি সামাল দিতে তড়িঘড়ি উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলবিরোধী কাজের অভিযোগে এই দুই বিধায়ককে বহিষ্কারের পর থেকেই দলের অন্দরে তীব্র মুষলপর্ব শুরু হয়েছে। বর্তমানে তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ৮০ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৭৮-এ।
মহারাষ্ট্রের ছায়া বাংলায়, বড় ভাঙনের আশঙ্কা
রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, মহারাষ্ট্রের শিবসেনা বা এনসিপির মতো পরিণতি হতে পারে তৃণমূলের। অতীতে উদ্ধব ঠাকরে ও শরদ পওয়ারের হাত থেকে যেভাবে দলের নিয়ন্ত্রণ এবং দলীয় প্রতীক চলে গিয়েছিল, বাংলায় কি সেই ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দলের প্রায় ৫০ জন বিধায়ক একযোগে দল ছাড়তে পারেন বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদি এই আশঙ্কা সত্যি হয়, তবে বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদাও হারাতে পারে শাসকদল। বহিষ্কৃত বিধায়কদের হাত ধরে ‘নতুন তৃণমূল’ গঠনের জল্পনাও এখন তুঙ্গে।
নেত্রীর পালটা হুঁশিয়ারি ও রাজনৈতিক প্রভাব
এই চরম সংকটের মাঝেই ফেসবুক লাইভে এসে মুখ খুলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি একজন ‘বড় খেলোয়াড়’। বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, অতীতে সিপিএম করা এই নেতাকে টিকিট দেওয়া দলের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। পাশাপাশি বিজেপির দিকে আঙুল তুলে দল ভাঙানোর চেষ্টার অভিযোগও করেছেন তিনি। দলের এক সাংসদের নাম না করে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে মমতা জানান, যারা বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং পরিবারতন্ত্র কায়েম করতে চাইছেন, দল তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে।
অন্যদিকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরেই সুর চড়িয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারের সমস্ত দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে চিঠি লেখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এই ঘটনাপ্রবাহের জেরে আগামী দিনে রাজ্যের শাসকদলের সাংগঠনিক অস্তিত্ব এবং আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে বাংলার রাজনীতির ভবিষ্যৎ।