অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মে কেন এত কড়াকড়ি, নবান্ন থেকে আসল কারণ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মে কেন এত কড়াকড়ি, নবান্ন থেকে আসল কারণ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যে সদ্য চালু হওয়া অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া ১ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আগামী বুধবার থেকেই যোগ্য মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা ঢুকতে শুরু করবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে এই প্রকল্পের ১২ পাতার দীর্ঘ আবেদনপত্র নিয়ে সাধারণ মহিলাদের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। কেন এত ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর সোমবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে বিষয়টি স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী।

ভুয়ো উপভোক্তা ও আর্থিক জালিয়াতি রুখতে কঠোর পদক্ষেপ

মুখ্যমন্ত্রী জানান, পূর্ববর্তী লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। ইতিমধ্যেই এমন ২২টি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা গেছে, যেখানে মহিলা সেজে পুরুষরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সরকারি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, হাজার হাজার ভুয়ো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অন্তত ৩০ লক্ষ টাকা লুট করা হয়েছে। এই ধরনের বড়সড় আর্থিক তছরূপ রুখতেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আবেদনপত্রে তথ্যের বিস্তারিত যাচাইকরণ করা হচ্ছে। প্রকৃত ও যোগ্য মহিলারা যাতে তাঁদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সেই কারণেই এই কড়াকড়ি।

তদন্তের নির্দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

এই জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেলকে (ডিজিপি) অবিলম্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT) গঠন করে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, জেলায় জেলায় প্রায় ২০ জন উচ্চপদস্থ আধিকারিক পুরো আবেদন ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি নজরদারি চালাচ্ছেন।

মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মহিলাদের উদ্দেশ্যে আশ্বস্ত করে বলেন, ফর্মে পাতার সংখ্যা নিয়ে বিরোধীদের অপপ্রচারে কান দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকারের পক্ষ থেকে বার্ষিক ৩৬ হাজার টাকা উপভোক্তাদের দেওয়া হবে, তাই সুরক্ষার স্বার্থে তথ্যের সঠিক মূল্যায়ন অত্যন্ত জরুরি। সামান্য সহযোগিতার মাধ্যমে সব বৈধ আবেদনকারীই দ্রুত এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *