NEET প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে শ্রীঘরে ডাক্তারসহ ৩ জন, এবার CBI-এর নজরে কারা?

দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলে দেওয়া NEET-UG পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস মামলায় আরও এক বড়সড় মোড় এল। এই কাণ্ডে ধৃত এক চিকিৎসক, একজন শিক্ষক এবং একজন বিশেষজ্ঞকে এবার জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিল দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত। সোমবার সিবিআই (CBI)-এর জেরা পর্ব শেষ হওয়ার পর বিশেষ আদালতের বিচারক অজয় গুপ্তা আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত অভিযুক্তদের জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। ধৃতদের নাম ডঃ মনোজ শিরুরে, তেজস হর্ষদ কুমার শাহ এবং মনীষা সঞ্জয় হাওয়ালদার।
আদালতে সওয়াল-জবাব ও চাঞ্চল্যকর তথ্য
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই প্রশ্নফাঁসের পিছনে একটি বড়সড় ও সুসংগঠিত চক্র কাজ করছে। সিবিআই আদালতে জানিয়েছে, ধৃত ডঃ মনোজ শিরুরে শিবরাজ রঘুনাথ মোতেগাঁওকর নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে ডঃ শিরুরের বোনের বাড়ি থেকে উদ্ধারও করা হয়েছে। যদিও শিরুরের আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেল তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করেছেন এবং শুধুমাত্র এক অভিযুক্তের বয়ান ও টাকা উদ্ধারের ভিত্তিতে এই গ্রেফতারি বেআইনি। তবে সিবিআই এই যুক্তি খারিজ করে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, প্রশ্নফাঁস ষড়যন্ত্রে এই চিকিৎসকের সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
অন্যদিকে, ধৃত তেজস হর্ষদ কুমার শাহ হলেন পুণের ডঃ অভঙ্গ প্রভু মেডিক্যাল অ্যাকাডেমির ফিজিক্সের শিক্ষক। অভিযোগ, তেজসই ফিজিক্সের প্রশ্নপত্রটি মনীষা সঞ্জয় হাওয়ালদার নামে এক বিশেষজ্ঞের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে থাকা মনীষার মোবাইল ফোন থেকেও সেই প্রশ্নপত্র উদ্ধার করেছে সিবিআই।
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট যে, আর্থিক মুনাফা এবং দেশের প্রথম সারির চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবৈধ উপায়ে আসন পাইয়ে দেওয়ার লোভেই এই চক্রটি গড়ে উঠেছিল। চিকিৎসক, শিক্ষক এবং বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের মতো পেশাদারদের এই অপরাধমূলক চক্রে জড়িয়ে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থার নৈতিক অবক্ষয়কে নির্দেশ করে।
এই ঘটনার জল বহুদূর গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সিবিআই জানিয়েছে, এই চক্রের শিকড় অনেক গভীরে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বর্তমানে তল্লাশি অভিযান চলছে। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন এবং ধৃতদের বয়ান খতিয়ে দেখে এই প্রশ্নপত্র আর কোথায় কোথায় ছড়িয়েছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। এর ফলে আগামী দিনে এই কাণ্ডে জড়িত আরও একাধিক রাঘববোয়াল সিবিআই-এর জালে জড়াতে পারে, যা দেশীয় চিকিৎসা প্রবেশিকা পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় বড়সড় প্রভাব ফেলবে।