বিনামূল্যে মিলবে ৩৫ কেজি খাদ্যশস্য, দুঃস্থ পরিবারগুলোর জন্য বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের
অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এবং দারিদ্র্যসীমার নীচে থাকা পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আবারও বড় উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা’ প্রকল্পের আওতায় এবার যোগ্য উপভোক্তাদের প্রতি মাসে বিনামূল্যে ৩৫ কেজি করে খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হবে। বিশেষ করে অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা সুবিধাভোগী এবং গ্রামীণ এলাকার দুঃস্থ পরিবারগুলো এই সিদ্ধান্তের ফলে সরাসরি উপকৃত হতে চলেছেন।
২০২০ সালের মার্চ মাসে কোভিড-১৯ মহামারীর তীব্র সংকটের সময় দেশের প্রায় ৮১ কোটিরও বেশি মানুষের খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রথম এই প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সময়ে এর কার্যকারিতা কিছুটা ঝিমিয়ে পড়লেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক চাপ কমাতে এবং পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এই ব্যবস্থা পুনরায় সক্রিয় করা হচ্ছে। ভূমিহীন কৃষি শ্রমিক, প্রান্তিক কৃষক, গ্রামীণ কারিগর, বস্তিবাসী এবং দিনমজুরদের মতো প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষরাই মূলত এই খাদ্য সহায়তার মূল লক্ষ্য।
স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বায়োমেট্রিক নজরদারি
অতীতে রেশন বণ্টন ব্যবস্থায় নানাবিধ কারচুপি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও, এবার কেন্দ্র সরকার বণ্টন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ করতে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ ন্যায্যমূল্যের দোকানেই ইতিমধ্যে ‘পয়েন্ট অফ সেল’ (ই-পস) মেশিন বসানো সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রত্যেক উপভোক্তাকে বায়োমেট্রিক যাচাইকরণের মাধ্যমে আঙুলের ছাপ দিয়ে এই বিনামূল্যে রেশন সংগ্রহ করতে হবে। প্রশাসনের এই কঠোর নজরদারির কারণে ভুয়া রেশন কার্ডের ব্যবহার এবং কালোবাজারি যেমন বন্ধ হবে, তেমনই প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে সরকারি সাহায্য পৌঁছানো নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
যারা ইতিমধ্যে সরকারি রেশন ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত এবং নিয়মিত রেশন পাচ্ছেন, তারা সরাসরি এই ৩৫ কেজি বিনামূল্যে খাদ্যশস্যের সুবিধা পাবেন। তবে নতুন করে এই প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করার জন্য কীভাবে আবেদন করতে হবে, সেই সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা বা প্রক্রিয়া এখনও সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড়সড় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রান্তিক পরিবারগুলোর নিত্যদিনের খাদ্য ক্রয়ের খরচ একধাক্কায় অনেকটাই কমে যাবে, যা তাদের অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে সাহায্য করবে। তবে এই বিশাল পরিমাণ খাদ্যশস্যের জোগান এবং বণ্টন ব্যবস্থা ত্রুটিহীনভাবে বজায় রাখাই এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।