বক্স অফিসে ঝড় তোলা ‘ধুরন্ধর-২’ দেখেই কি তবে ফের উত্তপ্ত হচ্ছে আন্ডারওয়ার্ল্ড!

বলিউডের সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত স্পাই থ্রিলার সিনেমা ‘ধুরন্ধর-২: রিভেঞ্জ’ বক্স অফিসে ব্যাপক সাফল্য পেলেও, তা মোটেও ভালোভাবে নেয়নি কুখ্যাত আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের ডি-কো ম্পা নি। পরিচালক আদিত্য ধরের এই ছবিতে ‘বড়সাহেব’ নামের একটি চরিত্রের অবয়ব ও কথাবলার ধরণ করাচির ডনের সঙ্গে হুবহু মিলে যাওয়ায় তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এই গ্যাংয়ের অন্দরে। ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই ছবির সাফল্যের পর নিজেদের শক্তি ও উপস্থিতি জানান দিতেই বাণিজ্য নগরী মুম্বইতে নতুন করে সক্রিয়তা বাড়াতে শুরু করেছে দাউদ বাহিনী।
নেপথ্যে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ক্ষোভ ও নতুন ষড়যন্ত্র
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ছবিতে দাউদ ইব্রাহিমের আদলে তৈরি চরিত্রটি যেভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তাতে ক্ষুব্ধ ডি-কো ম্পা নি। দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা এই গ্যাংটি এখন মুম্বইয়ের বুকে তাদের পুরোনো গ্রাউন্ড নেটওয়ার্ক পুনরুজ্জীবিত করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। এই লক্ষ্য পূরণে দাউদের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও বিপজ্জনক শার্প শ্যুটার মুন্না ঝিঙ্গাদাকে নতুন করে সদস্য সংগ্রহ এবং নেটওয়ার্ক ঢেলে সাজানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের করাচিতে সেনা ও প্রশাসনের নজরদারিতে থেকেও দাউদ গ্যাংয়ের এই তৎপরতা ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তৎপর তালিকায় শীর্ষ জঙ্গিরা, বাড়ছে নাশকতার আশঙ্কা
গোয়েন্দা রিপোর্টে আরও জানানো হয়েছে, মুম্বইকে কেন্দ্র করে এই সক্রিয়তার পেছনে দাউদের ভাই আনিস ইব্রাহিম ওরফে ছোটা আনিস এবং সেকেন্ড ইন কম্যান্ড শাকিল শেখ ওরফে ছোটা শাকিল প্রধান ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া ভারত বিরোধী নাশকতায় যুক্ত থাকা জাভেদ চিকনা এবং টাইগার মেমনের মতো শীর্ষ অপরাধীদেরও এই পরিকল্পনায় কাজে লাগানো হচ্ছে। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, এই আকস্মিক মুভমেন্টের নেপথ্যে মুম্বই জুড়ে বড়সড় কোনো আর্থিক অপরাধ বা নাশকতামূলক ব্লু-প্রিন্ট থাকতে পারে, যা রুখতে ইতিমধ্যেই দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।