বারবার গর্ভপাতের কঠিন লড়াই, দুই কন্যাকে ঘিরেই অবশেষে দেবিনা এবং গুরমীতের জীবনে বসন্ত

বারবার গর্ভপাতের কঠিন লড়াই, দুই কন্যাকে ঘিরেই অবশেষে দেবিনা এবং গুরমীতের জীবনে বসন্ত

টেলিভিশন দুনিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় এবং আদর্শ জুটি গুরমিত চৌধুরী ও দেবিনা বন্দ্যোপাধ্যায়। পর্দার প্রেম বাস্তবে রূপ পেলেও তাঁদের মা-বাবা হওয়ার জার্নিটা মোটেও সহজ ছিল না। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, শারীরিক কষ্ট এবং একের পর এক ব্যর্থতার গ্লানি পেরিয়ে আজ তাঁরা দুই কন্যাসন্তান লিয়ানা ও দিবিশার জনক-জননী। সম্প্রতি একটি রিয়েলিটি শো-তে এসে নিজেদের জীবনের সেই দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক সংগ্রামের কথাই তুলে ধরেছেন এই তারকা দম্পতি।

এক দশকের অপেক্ষা এবং চিকিৎসকদের আশঙ্কা

বিয়ের পর প্রায় ১০-১১ বছর কোনো সন্তানের মুখ দেখেননি এই দম্পতি। গুরমিত জানান, এই দীর্ঘ সময়ে বহুবার গর্ভপাতের যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে দেবিনাকে। এমনকি একাধিক নামী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরও তাঁরা জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, হয়তো কোনোদিনই এই দম্পতির বাবা-মা হওয়া সম্ভব নয়। চিকিৎসকদের এমন নেতিবাচক পূর্বাভাস সত্ত্বেও হাল ছাড়েননি তাঁরা। মানসিক এবং শারীরিক চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও একে অপরের হাত শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন।

সংগ্রামের নেপথ্য কারণ ও সামাজিক প্রভাব

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, বন্ধ্যাত্ব বা বারবার গর্ভপাতের পেছনে হরমোনজনিত সমস্যা, শারীরিক জটিলতা কিংবা অতিরিক্ত মানসিক চাপ অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করে। দেবিনা ও গুরমীতের এই প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি সমাজে একটি বড় বার্তা দেয়। তারকাদের এমন খোলামেলা আলোচনা সাধারণ মানুষের মনেরtaboo বা সংকোচ দূর করতে সাহায্য করে। দেবিনা নিজেই উল্লেখ করেছেন যে, বিশ্বের কোটি কোটি নারী প্রতিদিন এই একই যন্ত্রণার মুখোমুখি হন। এই ধরনের আলোচনা তাঁদের মানসিক শক্তি জোগায় এবং পরিবার ও সমাজের সহমর্মী দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

ধৈর্য ও বিশ্বাসের অলৌকিক পরিণতি

২০০৬ সালে গোপনে এবং পরে ২০১১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই জুটির জীবনে অবশেষে ২০২২ সাল আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। ২০২২ সালের এপ্রিলে দীর্ঘ চিকিৎসার পর সারোগেসির মাধ্যমে তাঁদের প্রথম কন্যা লিয়ানার জন্ম হয়। এর ঠিক কয়েক মাসের মাথায়, নভেম্বরে সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবে তাঁদের কোল আলো করে আসে দ্বিতীয় কন্যা দিবিশা। চিকিৎসকদের সমস্ত আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত করে দুই কন্যার উপস্থিতিতে আজ দেবিনা ও গুরমীতের সংসার পূর্ণতা পেয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *