পরিচারিকার কাজ থেকে সরাসরি মন্ত্রী, শুভেন্দুর ক্যাবিনেটে আউশগ্রামের কলিতা মাঝির রূপকথা

রাজ্যে ঐতিহাসিক জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে গঠিত প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া শুরু হল। ক্ষমতা গ্রহণের ঠিক তিন সপ্তাহ পর সোমবার রাজভবনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে মোট ৩৫ জন বিজেপি বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই তালিকায় রয়েছেন ১৩ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ৫ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী। তবে এই সামগ্রিক রদবদলের মাঝে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে আউশগ্রামের বিধায়ক কলিতা মাঝির নাম, যিনি ১৯ জন প্রতিমন্ত্রীর অন্যতম হিসেবে শপথ নিয়ে আবেগে ভাসলেন।
অভাবকে জয় করে বিধানসভায়
গুসকরা পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝপুকুর পাড়ের বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী কলিতা মাজি গত এক দশক ধরে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আউশগ্রামের মতো তপশিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত আসনে বিজেপির টিকিট পাওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি দুটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে মাসে মাত্র ৪,০০০ টাকা উপার্জন করতেন। তাঁর স্বামী সুব্রত মাজি পেশায় একজন প্লাম্বার। ভোটের টিকিট পাওয়ার পর কাজ থেকে এক মাসের ছুটি নিয়ে প্রচারের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন কলিতা। দলীয় নেতৃত্বের আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে সদ্য সমাপ্ত ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শ্যামাপ্রসন্ন লোহারকে ১২,৫৩৫ ভোটে পরাজিত করে তিনি বিধায়ক নির্বাচিত হন।
উন্নয়নের লক্ষ্যে দৃঢ় প্রত্যয়
দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষের মাঝে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই নিজ কেন্দ্রের দরিদ্র মানুষের অভাব-অনটনকে খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করেছেন কলিতা মাজি। মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর মূল লক্ষ্য অনগ্রসর শ্রেণির উন্নয়ন, পরিশ্রুত পানীয় জল, উন্নত রাস্তাঘাট, যুবকদের কর্মসংস্থান এবং নারী নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। আউশগ্রামের বাসিন্দাদের চিকিৎসার জন্য যাতে বারবার বর্ধমান শহরে ছুটতে না হয়, তার জন্য এলাকায় একটি হাসপাতাল তৈরি করতে চান তিনি। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে সৌরশক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং আউশগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর আবাসন যোজনা বাস্তবায়িত করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। কলিতার এই অভাবনীয় উত্থান রাজ্যের পিছিয়ে পড়া শ্রেণির প্রান্তিক মানুষের জন্য এক বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তা হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।