উত্তরের শেষ দুর্গও হাতছাড়া রাহুলের, পাঞ্জাবের পর হিমাচলের স্থানীয় নির্বাচনেও ধরাশায়ী কংগ্রেস

গোটা উত্তর ভারতে কংগ্রেসের একমাত্র দুর্গ হিসেবে পরিচিত হিমাচল প্রদেশেও বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ল হাত শিবির। পাঞ্জাবের নির্বাচনী ধাক্কার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার হিমাচল প্রদেশের স্থানীয় নির্বাচনেও শোচনীয় পরাজয় ঘটল শাসক দল কংগ্রেসের। রাজ্যের ৪টি পুরনিগমের মধ্যে ৩টিই দখল করে নিয়েছে বিজেপি। আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ফলাফলকে কংগ্রেসের জন্য এক বড়সড় সঙ্কেত এবং উত্তর ভারতে দলের অস্তিত্বের সংকটের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিপর্যয়ের নেপথ্যে অভ্যন্তরীণ সমীকরণ
কংগ্রেস শাসিত হিমাচল প্রদেশের মান্ডি, ধরমশালা এবং সোলান—এই ৩টি পুরনিগমেই বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছে বিজেপি। এর মধ্যে মান্ডি বাদে বাকি পুরনিগমগুলি এতদিন কংগ্রেসের দখলেই ছিল। রাহুল গান্ধীর দলের জন্য একমাত্র সান্ত্বনা কেবল পালামপুর পুরনিগম, যেখানে তারা ক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছে। দিন দুই আগেই পাঞ্জাবের নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল করতে ব্যর্থ হয়েছে কংগ্রেস। সেখানে আম আদমি পার্টির দাপট এবং বিজেপির আকস্মিক উত্থানের পর, হিমাচলের এই ফল দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও স্থানীয় স্তরে জনমোহিনী ভাবমূর্তি হ্রাসের কারণকে স্পষ্ট করে তুলেছে।
আগামী বিধানসভা নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রভাব
হিমাচল প্রদেশে এই পুরভোটের ফলাফলকে আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের সেমিফাইনাল হিসেবে গণ্য করা হচ্ছিল। এর আগে ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে এই পুরভোটেই ভালো ফল করে রাজ্যে সরকার গড়েছিল কংগ্রেস। ফলে বর্তমান ফলাফল আগামী বছরের নির্বাচনী লড়াইয়ে বিজেপির অনুকূলে এক বড় রাজনৈতিক হাওয়া তৈরি করতে পারে। দক্ষিণের রাজ্যগুলির বাইরে উত্তর ভারতে হিমাচলই ছিল কংগ্রেসের একমাত্র আশ্রয়স্থল। স্থানীয় স্তরের এই ভরাডুবি আগামী দিনে বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াইকে কংগ্রেসের জন্য আরও কঠিন করে তুলল।