প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়নের চালককে মারধর, কেরলে তুঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়নের চালককে মারধর, কেরলে তুঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা

নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই দক্ষিণী রাজ্য কেরলের রাজনৈতিক পারদ ঊর্ধ্বমুখী। এই উত্তেজনার আবহেই এবার রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের গাড়ির চালককে মারধর ও হেনস্থা করার অভিযোগ উঠল খোদ পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেরল পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

পার্কিং বিতর্ক ও নিগ্রহের অভিযোগ

ঘটনার সূত্রপাত গত ৩০ মে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের চালক অনুপের অভিযোগ, ওই দিন তিনি বিজয়নকে তিরুবনন্তপুরম স্টেশনে নামিয়ে ফিরছিলেন। সেই সময় কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক তাঁর পথ আটকে দাঁড়ান এবং গাড়ি পার্কিং নিয়ে আপত্তি তোলেন। অভিযোগ, এরপরই পুলিশ কর্তারা অনুপকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং শারীরিকভাবে নিগ্রহ করেন। এই ঘটনার পর আইনি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেন অনুপ। তিনি ইতিমধ্যেই পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্তাকে শনাক্তও করেছেন।

ইডি নিষ্ক্রিয়তা বনাম রাজনৈতিক চাপ

এই মারধরের ঘটনার নেপথ্যে রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। সম্প্রতি কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং প্রাক্তন পর্যটনমন্ত্রী মহম্মদ রিয়াজের কোঝিকোড়ের বাড়িসহ রাজ্যের মোট ১২টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ২০১৮-১৯ সালের একটি পুরনো আর্থিক দুর্নীতির মামলায় এই অভিযান চালানো হয়, যেখানে বিজয়নের কন্যা টি বীণার আইটি সংস্থার বিরুদ্ধে একটি বেসরকারি খনি সংস্থা থেকে ১.৭২ কোটি টাকা বেআইনিভাবে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

আইনি জটিলতা ও দূরগামী প্রভাব

সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থাটি ইডির তদন্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হলেও সম্প্রতি কেরল হাই কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের সবুজ সংকেত মেলার পরেই ইডির এই অতিসক্রিয়তা শুরু হয়। একদিকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির লাগাতার চাপ, আর অন্যদিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কর্মচারীর ওপর স্থানীয় পুলিশের এই হামলা— দুইয়ে মিলে কেরলের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে। চালক নিগ্রহের এই ঘটনা রাজ্য প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *