৩.২৫ লক্ষ কোটির মেগা ডিল, ১১৪টি বিধ্বংসী রাফাল কিনে আকাশসীমা দুর্ভেদ্য করছে ভারত

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আরও এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারত। দেশের আকাশসীমাকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও শক্তিশালী করতে ফ্রান্সের কাছ থেকে ১১৪টি রাফাল মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার এই মেগা চুক্তির জন্য একটি লেটার অব রিকোয়েস্ট (LoR) প্রস্তুত করে ফেলেছে, যা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনার জন্য ফ্রান্সে পাঠানো হতে পারে। সরকারি স্তরে হতে যাওয়া এই মেগা চুক্তির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। ভারতের ইতিহাসে এটিকে সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিমান কেনার কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা স্বাভাবিকভাবেই প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানের উদ্বেগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
মেক ইন ইন্ডিয়া ও আত্মনির্ভর ভারত
এই প্রস্তাবিত চুক্তির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার ও উৎপাদন। চুক্তি অনুযায়ী, ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমানের মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৯০ থেকে ৯২টি বিমান ভারতেই তৈরি করা হবে। ফরাসি বিমান নির্মাতা সংস্থা ডাসল্ট অ্যাভিয়েশন এবং একটি ভারতীয় সংস্থার যৌথ উদ্যোগে কেন্দ্রের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের আওতায় এই উৎপাদন প্রক্রিয়া চলবে। বাকি ২২টি বিমান সরাসরি ফ্রান্স থেকে তৈরি অবস্থায় উড়িয়ে আনা হবে। এই পুরো প্রকল্পে প্রায় ৫০ শতাংশ দেশীয় উপাদান ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা ভারতের মহাকাশ, বিমান উৎপাদন শিল্প এবং প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদনে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যকে এক ধাক্কায় অনেকটা এগিয়ে দেবে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রভাব
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কথা মাথায় রেখে ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। রাফালকে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও বিধ্বংসী মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি আকাশে আধিপত্য বিস্তার করার পাশাপাশি নিখুঁতভাবে স্থলভাগে হামলা চালানো, শত্রুপক্ষের ওপর নজরদারি এবং প্রতিরোধমূলক অভিযানে সমান পারদর্শী। এই ১১৪টি যুদ্ধবিমান বায়ুসেনায় অন্তর্ভুক্ত হলে ভারতের সামরিক শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে এই চুক্তি ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যকার কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে।