উত্তরপত্রের ফি যেন পকেটমারি, সিবিএসই বিতর্কে মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ রাহুলের

উত্তরপত্রের ফি যেন পকেটমারি, সিবিএসই বিতর্কে মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ রাহুলের

কেন্দ্রীয় শিক্ষা বোর্ডের (সিবিএসই) দ্বাদশ শ্রেণীর উত্তরপত্র মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক এবার ভিন্ন মাত্রা নিয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবার সরাসরি বোর্ডের ফি কাঠামোকে ‘পকেটমারি’ বলে কটাক্ষ করেছেন। এর ফলে দেশজুড়ে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে মোদী সরকার তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে।

ভুলের মাশুল গুনছে শিক্ষার্থীরা

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে রাহুল গান্ধী সিবিএসই-র পুনর্মূল্যায়ন সংক্রান্ত ফি’র একটি তালিকা প্রকাশ করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ডিজিটাল স্ক্যান করা উত্তরপত্রের কপি পেতে প্রতি বিষয়ে ১০০ টাকা, নম্বর পুনঃগণনার জন্য ১০০ টাকা এবং প্রশ্ন পিছু পুনর্মূল্যায়নের জন্য ২৫ টাকা করে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। কংগ্রেস নেতার দাবি, বোর্ডের নিজস্ব ভুলের কারণে প্রাপ্ত নম্বরে গরমিল হলে তার আর্থিক দায় কেন পরীক্ষার্থীদের ওপর চাপানো হবে? একজন শিক্ষার্থীকে নিজের সঠিক নম্বর নিশ্চিত করতে প্রায় দুই হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে। আর এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪ লক্ষ আবেদনকারী শিক্ষার্থীর থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করছে বোর্ড, যাকে সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেট কাটার সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দায়সারা স্ক্যানিংয়ের কারণে নম্বরের ভুল হওয়াটা অনিবার্য ছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

ব্যর্থতা ঢাকতে সেনাবাহিনীর শরণাপন্ন কেন্দ্র

সিবিএসই-র দ্বাদশের পরীক্ষার এই মূল্যায়ন বিভ্রাটের কারণে প্রায় ১৮ লাখ পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে, যা দেশের শিক্ষাচক্রের ইতিহাসে নজিরবিহীন। এই নড়বড়ে শিক্ষা ব্যবস্থার মাঝেই আগামী ২১ জুনের নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রশ্নপত্র নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়া এবং নজরদারির কাজে সেনা হেলিকপ্টার ও সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করা হবে। সংশ্লিষ্ট মহল এই সিদ্ধান্তকে পরীক্ষা পরিচালনায় কেন্দ্রীয় সরকারের চরম অসহায়তা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রমাণ হিসেবেই দেখছে।

চাপের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ও নীরব প্রধানমন্ত্রী

বিগত কয়েক বছরে একাধিক সর্বভারতীয় পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ও মূল্যায়ন কেলেঙ্কারি নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বিষয়ে নীরব রয়েছেন। অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এই মূল্যায়ন কেলেঙ্কারির নৈতিক দায় স্বীকার করলেও তাঁর পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে। খোদ সরকারের অন্দরেই তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরীক্ষা ব্যবস্থার এই দীর্ঘমেয়াদী বিশৃঙ্খলা দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *