ঋণ শোধের মরিয়া চেষ্টায় ভুয়ো জঙ্গি সেজে চিকিৎসকদের হুমকি, আসাম থেকে গ্রেপ্তার মূল অভিযুক্ত

ব্যবসায় বিপুল অঙ্কের ঋণ। আর সেই ধারের টাকা মেটাতে চিকিৎসকদের টার্গেট করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক ভয়ঙ্কর ছক কষেছিল এক যুবক। নিজেকে জঙ্গি সংগঠনের সদস্য পরিচয় দিয়ে কলকাতার একাধিক নামী চিকিৎসককে হুমকি চিঠি পাঠানোর অভিযোগে অবশেষে আসামের লামডিং থেকে গ্রেপ্তার করা হলো শিবতোষ দেবরায় নামের এক যুবককে। লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ ও স্থানীয় থানার যৌথ তৎপরতায় ভেস্তে গেল এই বড়সড় তোলাবাজির পরিকল্পনা।
তদন্তের সূত্রপাত ও পুলিশের জাল
পূর্ব কলকাতার আনন্দপুর ও পূর্ব যাদবপুর এলাকার বেশ কয়েকজন বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক সম্প্রতি একটি করে টাইপ করা চিঠি পান। নিজেকে একটি কাল্পনিক জঙ্গি সংগঠনের ‘স্পেশাল ইউনিট’-এর সদস্য ও ‘কিলিং মেশিন’ দাবি করে সেই চিঠিতে চিকিৎসকদের কাছে ১০ লাখ টাকা করে তোলা চাওয়া হয়। টাকা না দিলে সায়ানাইড খাইয়ে বা পথ দুর্ঘটনা ঘটিয়ে সপরিবারে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। টাকা হস্তান্তরের জন্য সায়েন্স সিটির কাছে একটি নির্দিষ্ট জায়গা ও কালো ব্যাগ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া ছিল।
হুমকি চিঠি পেয়ে চিকিৎসকেরা আতঙ্কিত না হয়ে সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হন। লালবাজারের গোয়েন্দারা তদন্তে নেমে জানতে পারেন, মধ্য কলকাতার জিপিও (জেনারেল পোস্ট অফিস) থেকে এই চিঠিগুলি পোস্ট করা হয়েছিল। জিপিও-র সিসিটিভি ফুটেজে মাস্ক পরা এক সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করার পাশাপাশি জিপিও অঞ্চলের মোবাইল টাওয়ারের ‘কল ডাম্প’ বিশ্লেষণ করে পুলিশ অভিযুক্তের খোঁজ পায়। ততক্ষণে কলকাতা ছেড়ে আসামে পালিয়ে যাওয়া শিবতোষকে মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে লামডিং থেকে গ্রেপ্তার করে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় নিয়ে আসচেন তদন্তকারীরা।
ঋণের জাল থেকে অপরাধের অন্ধকার পথ
প্রাথমিক জেরায় ধৃত যুবক অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। জানা গেছে, আসামে হোটেল ব্যবসা করতে গিয়ে বিপুল অঙ্কের দেনার মুখে পড়েছিল শিবতোষ। সেই ঋণ শোধের আশায় সে কলকাতায় এসে নতুন করে হোটেল খোলার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। এরপর নিজের একটি কিডনি ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করার পরিকল্পনাও করেছিল সে।
কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতাল চত্বরে ঘোরার সময়ই তার মাথায় চিকিৎসকদের ব্ল্যাকমেল করার বুদ্ধি আসে। বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকদের নাম ও বিভাগ সংগ্রহ করে সে এই চরম অপরাধের ছক কষে। এই ঘটনার পর কলকাতার চিকিৎসা মহল স্বস্তি পেলেও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও অপরিচিত চিঠিপত্র আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।