বিজেপি জমানায় হিন্দুরাও অত্যাচারিত এবং বঞ্চিত, মমতার বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় রাজনীতি

বিজেপি জমানায় হিন্দুরাও অত্যাচারিত এবং বঞ্চিত, মমতার বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় রাজনীতি

লোকসভা নির্বাচনের আবহে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে এক অভূতপূর্ব ও বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলে কেবল সংখ্যালঘু বা মুসলিম সম্প্রদায়ই নয়, সমানভাবে বঞ্চিত ও অত্যাচারিত হচ্ছেন হিন্দুরাও। কলকাতার এক জনসভা থেকে দেওয়া পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গেছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নতুন রাজনৈতিক কৌশল সাধারণ মানুষের ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক আবেগকে সরাসরি স্পর্শ করেছে। সাধারণত বিরোধী দলগুলো বিজেপির বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু নিপীড়নের অভিযোগ তুললেও, মমতা এবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বঞ্চনার বিষয়টি সামনে এনে পদ্ম-শিবিরকে রক্ষণাত্মক অবস্থানে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

উৎসবে বাধা ও রুটিরুজিতে টান

তৃণমূল নেত্রীর এই তীক্ষ্ণ আক্রমণের পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ ও উদাহরণ উঠে এসেছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই সরকারের আমলে এবার মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় উৎসব ইদ সঠিকভাবে পালন করতে দেওয়া হয়নি, যা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর ওপর বড় আঘাত। এর পাশাপাশি হিন্দুদের বঞ্চনার খতিয়ান টেনে তিনি বলেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থায় হিন্দুরাও শান্তিতে নেই। বিশেষ করে গো-বলয় এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কড়াকড়ির কারণে সাধারণ হিন্দু ব্যবসায়ীরা, বিশেষত যাঁরা দুধের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং স্বাধীনভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না।

তীব্র মেরুকরণের রাজনীতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

মমতার এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। বিজেপি যখন অনুন্নত ও পিছিয়ে পড়া হিন্দু ভোটব্যাংক এককাট্টা করতে মরিয়া, ঠিক তখনই হিন্দু ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক সংকটের কথা তুলে ধরে সেই ভোটব্যাংকে ফাটল ধরাতে চান মমতা।

এই বিবৃতির ফলে আগামী দিনগুলোতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে মেরুকরণের রাজনীতি আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে তৃণমূল নেত্রী নিজেকে সব ধর্মের রক্ষাকর্তা হিসেবে তুলে ধরে ভোটারদের একটি বড় অংশকে নিজের পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে এই অভিযোগের পালটা জবাবে বিজেপিও তাদের হিন্দুত্ববাদী ভাবমূর্তি ধরে রাখতে আক্রমণাত্মক প্রচার শুরু করতে পারে। অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে ধর্মীয় আবেগের এই মিশেল আসন্ন দিনগুলোতে নির্বাচনী লড়াইয়ের সমীকরণ অনেকটাই বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *