সই-কাণ্ডে দুই বিধায়ক বহিষ্কার, ক্ষমতা হারিয়েও তৃণমূলের পিছু ছাড়ছে না ‘চৌর্যবৃত্তি’ বিতর্ক!

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত সই জালিয়াতির অভিযোগে উত্তাল রাজ্যের রাজনীতি। জালিয়াতির নালিশ জানানো তৃণমূলের দুই নবনির্বাচিত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করেছে দল। দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, বিষয়টি নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। ঘটনার তদন্তভার নিয়েছে সিআইডি, যার জেরে খোদ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস পাঠিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
বিতর্কের সূত্রপাত ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি
গত বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর, ৬ মে কালীঘাটে তৃণমূলের এক বৈঠকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে ১৯ মে অপর এক বৈঠকের পর ৭০ জন বিধায়কের সই সংবলিত একটি প্রস্তাবনাপত্র বিধানসভার সচিবালয়ে জমা দেয় তৃণমূল। কিন্তু সচিবালয় খতিয়ে দেখে যে, জনা কুড়ি বিধায়কের সই হাজিরা খাতার সইয়ের সঙ্গে মিলছে না। এমনকি ৬ মে-র বৈঠকে অনুপস্থিত থাকা ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলামের সইও ওই পত্রে রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। সই জালের এই ঘটনায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করেন বিধানসভার সচিব, যার তদন্তভার পরবর্তীতে সিআইডি-র হাতে যায়। তদন্তের স্বার্থে সিআইডি ইতিমধ্যেই কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়সহ একাধিক বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছে।
রাজনৈতিক সংঘাত ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই সই-কাণ্ডের সূত্র ধরে সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলকে ‘ভেটেরান চোর’ বলে কটাক্ষ করেন। তিনি জানান, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত ও সন্দীপন স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানোর পরেই বিষয়টি সামনে আসে এবং পুলিশমন্ত্রী হিসেবে তিনি সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরপরই তৃণমূল উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপনকে বহিষ্কার করে। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আক্ষেপ করে জানান, এদের টিকিট দেওয়াই ভুল সিদ্ধান্ত ছিল এবং বিজেপির সুবিধা করে দিতেই এই চক্রান্ত করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বহিষ্কৃত বিধায়কদের দাবি, অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করার কারণেই তাঁদের এই শাস্তি পেতে হলো।
ক্ষমতা হারানোর পর এমনিতেই দুর্নীতি ইস্যুতে ব্যাকফুটে থাকা তৃণমূলের জন্য এই সই-বিতর্ক ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল নতুন অস্বস্তি তৈরি করল। বিশেষ করে সিআইডি তদন্তের আওতায় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চলে আসায় এবং বিধায়কদের সই ফরেনসিক পরীক্ষার মুখে পড়ায়, আগামী দিনে তৃণমূলের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।