দেরিতে হলেও জুনেই ঢুকবে বর্ষা, স্বস্তির বৃষ্টির মাঝেও এল নিনোর চোখরাঙানি!

দেরিতে হলেও জুনেই ঢুকবে বর্ষা, স্বস্তির বৃষ্টির মাঝেও এল নিনোর চোখরাঙানি!

ভারতের আবহাওয়া বিজ্ঞান দপ্তর (IMD) জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগে বর্ষা আসার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত হচ্ছে না। ঊর্ধ্বস্তরের প্রবল বায়ুপ্রবাহের অভাব এবং বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর আগমন কিছুটা ধীরগতির হয়ে পড়েছে। তবে জুন মাসের প্রথমার্ধেই দেশের মূল ভূখণ্ডে বর্ষা প্রবেশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ধীর গতিতে এগোচ্ছে মৌসুমী বায়ু

মৌসম ভবনের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্ষা শক্তিশালী হওয়ার জন্য ঊর্ধ্বস্তরের প্রবল বায়ুপ্রবাহ অপরিহার্য, যা ৫-৬ জুনের পর দক্ষিণ ভারতে সক্রিয় হতে পারে। আইএমডি প্রাথমিকভাবে কেরালায় ২৬ মে নাগাদ বর্ষা আসার কথা বললেও, বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী তা ২ থেকে ৪ জুনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, কেরালায় বর্ষা ঘোষণার জন্য প্রধান তিনটি শর্ত পূরণ হতে হয়। যার মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট সংখ্যক আবহাওয়া কেন্দ্রে একটানা বৃষ্টিপাত, আরব সাগরের উপর নির্দিষ্ট গতির পশ্চিমা বায়ু এবং পর্যাপ্ত মেঘের আচ্ছাদন। বর্তমানে বৃষ্টি ও মেঘ অনুকূল থাকলেও বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পশ্চিমা বাতাসের গতি দুর্বল রয়েছে, যা আগামী কয়েক দিনে কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষিকাজে এল নিনোর প্রভাব ও বাংলার আবহাওয়া

চলতি বছর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উদ্ভূত ‘এল নিনো’ পরিস্থিতির কারণে দেশজুড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমডি। দীর্ঘকালীন গড়ের (LPA) ৯০ শতাংশ বৃষ্টিপাত হতে পারে এই মরসুমে। উত্তর ও মধ্য ভারতে তীব্র তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় কৃষিকাজের জন্য এই মুহূর্তে সময়মতো বৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি। বৃষ্টি কম হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

কেরাল ছুঁয়েই বর্ষা এগোবে পশ্চিমবঙ্গের দিকে। তবে বঙ্গে পুরোদমে বর্ষা নামার আগে প্রাক-বর্ষার স্বস্তি মিলবে। আগামী সাতদিন কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই মেদিনীপুর, দুই ২৪ পরগণা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও নদিয়াসহ দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বিক্ষিপ্ত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *