তেল সঙ্কটেও ভারতের ‘মাস্টারস্ট্রোক’, যে কোনো দেশের ক্রুড অয়েল থেকেই মিলছে মুনাফা!

হরমুজ সঙ্কটেও মাস্টারস্ট্রোক, তেলের বাজারে বাজিমাত ভারতের
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও হরমুজ প্রণালীতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় যখন চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তখন ভারত তার প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতাকে কাজে লাগিয়ে এক নতুন অর্থনৈতিক রণকৌশল বাস্তবায়ন করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে ভারত এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের, যেকোনো মানের অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা তাদের জন্য সহজসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সক্ষমতার কারণেই বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট সত্ত্বেও ভারতের বাজারে পেট্রোল, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের জোগান স্বাভাবিক রয়েছে।
অ্যানি ক্রুড স্ট্র্যাটেজি ও রুশ তেলের ব্যবহার
ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলো আগে নির্দিষ্ট কিছু দেশ ও নির্দিষ্ট গ্রেডের ক্রুড অয়েলের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশীয় সংস্থাগুলো এখন ‘অ্যানি ক্রুড স্ট্র্যাটেজি’ বা ‘যেকোনো ক্রুড নীতি’ গ্রহণ করেছে। এর ফলে হালকা, ভারী বা সালফারযুক্ত—যেকোনো ধরনের তেল শোধন করার জন্য শোধনাগারগুলোকে নিমেষে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়ার সস্তা তেলের সহজলভ্যতা ভারতের জন্য তুরুপের তাস হিসেবে কাজ করেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে ভারত রেকর্ড পরিমাণ রুশ তেল আমদানি করেছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখছে।
মুনাফার নতুন কৌশল ও ভারতের শক্তি সুরক্ষা
ভারতের শোধনাগার পরিকাঠামো বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জটিল ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর। সস্তা ও নিম্নমানের ভারী ক্রুড তেল কিনে তা থেকে উচ্চ মূল্যের জ্বালানি তৈরির দক্ষতা ভারতীয় সংস্থাগুলোর মুনাফার মার্জিন কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় ভারত ইতিমধ্যেই আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার মতো বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানি বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে। ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার বিপরীতে কৌশলগত তেলের ভাণ্ডার মজুত রাখা এবং অভ্যন্তরীণ রিফাইনিং সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভারত কেবল নিজেদের অর্থনীতিকে সুরক্ষিতই করছে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি কূটনীতিতেও এক শক্তিশালী অবস্থানে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করছে।