ওজন কমাতে রোজ সকালে ওটস খাচ্ছেন, অজান্তেই ডেকে আনছেন না তো বড় বিপদ!

ওজন কমাতে রোজ সকালে ওটস খাচ্ছেন, অজান্তেই ডেকে আনছেন না তো বড় বিপদ!

মেদ ঝরাতে আজকাল অনেকেই সকালের জলখাবারে ভাত, রুটি বা পরোটা বাদ দিয়ে ওটস বেছে নিচ্ছেন। কম সময়ে তৈরি করা যায় এবং দ্রুত পেট ভরে যায় বলে ওজন কমানোর যাত্রায় এটি এখন অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, সঠিক নিয়মে না খেলে এই স্বাস্থ্যকর খাবারটিই শরীরের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। ভুল পদ্ধতিতে ওটস খাওয়ার কারণে ওজন কমার পরিবর্তে উল্টো শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

পুষ্টিহীনতার ঝুঁকি ও ভুল খাদ্যাভ্যাস

অনেকেই সময় বাঁচাতে ওটস কেবল গরম জলে গুলে খেয়ে নেন। পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, ওটসে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম থাকলেও এতে নিজস্ব প্রোটিন বা পর্যাপ্ত হেলদি ফ্যাট থাকে না। ফলে দীর্ঘদিন শুধু জলে গুলে ওটস খেলে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হয়। এর জেরে হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়া (লো প্রেশার) এবং তীব্র শারীরিক দুর্বলতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ওটসকে সুস্বাদু করতে গিয়ে অনেকে আবার এতে প্রচুর চিনি, মিষ্টি সিরাপ বা চকোলেট চিপস মিশিয়ে ডেজার্ট বানিয়ে ফেলেন। এই অভ্যাসের কারণে ওটসের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয় এবং বাজারের সাধারণ মিষ্টি বা কেক খাওয়ার মতোই শরীরের ক্ষতি হয়, যা ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ব্যর্থ করে দেয়।

সুষম খাবার তৈরির উপায় ও পরিমাপ

শরীর সুস্থ রেখে ওজন কমাতে ওটসকে একটি সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে তৈরি করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ওটসকে ভাতের বিকল্প ধরে নিয়ে এর সঙ্গে প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান যোগ করা জরুরি। সকালের জলখাবারে ওটস দুধ বা টক দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে, তাতে মধু, ড্রাই ফ্রুটস কিংবা ফলের টুকরো যোগ করা যেতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন সবজি ও ডাল দিয়ে ওটসের খিচুড়ি অথবা ডিম, পেঁয়াজ ও টমেটো দিয়ে ওটসের অমলেট বানিয়ে খেলে তা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে এবং শরীরের প্রোটিনের চাহিদাও পূরণ করে।

খাবারের পরিমাণের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ৪০ থেকে ৬০ গ্রাম ওটস যথেষ্ট। পরিমাণে কম মনে হলেও অতিরিক্ত মাত্রায় বা বড় বাটি ভর্তি ওটস খেলে পেট ফেঁপে যাওয়া এবং হজমজনিত নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। সঠিক নিয়ম ও পরিমাপ মেনে চললে তবেই ওটসের সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যগুণ পাওয়া সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *