কলকাতা পুরসভাতেও বাড়ছে ফাটল, আজই পদত্যাগ করতে পারেন তৃণমূলের আরও এক মেয়র পারিষদ

বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় হারের পর থেকেই একের পর এক ধাক্কায় ক্ষত-বিক্ষত তৃণমূল কংগ্রেস। একদিকে দলের নিজস্ব নেতারাই নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই খড়্গহস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে দুর্নীতির দায়ে ছোট-বড় নেতাদের গ্রেফতার হওয়ার হিড়িক দেখা দিয়েছে। এই জোড়া চাপে এবার কলকাতা পুরসভাও (কেএমসি) তৃণমূলের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তার মধ্যে আবার পুরসভার ভিতরে ফাটল চওড়া করে আজ মঙ্গলবারই পদত্যাগ করতে চলেছেন একজন মেয়র পারিষদ (এমএমআইসি)।
ক্রমশ চওড়া হচ্ছে ভাঙন
ছাব্বিশের ভোটে শাসকদলের নজিরবিহীন বিপর্যয়ের পর থেকেই কলকাতা পুরসভার মধ্যে ক্ষোভ ও পদত্যাগের হিড়িক লেগেছে। একে একে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন শাসকদলের প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিরা। মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভার বোর্ড থেকে ইস্তফা দিতে চলেছেন এমন একজন মেয়র পারিষদ, যা পুর-প্রশাসনের অন্দরে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর পুরসভায় প্রথম ধাক্কাটি লাগে ৯ নম্বর বোরোর চেয়ারপার্সনের পদ থেকে দেবলীনা বিশ্বাসের ইস্তফায়। এরপর কসবার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ ১২ নম্বর বোরোর চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন। শুধু বোরো চেয়ারম্যানই নন, ধাক্কা এসেছে পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতেও। কলকাতা পুরসভার অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী।
বিপর্যয়ের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের অন্দরে তৈরি হওয়া এই নজিরবিহীন বিদ্রোহ এবং একের পর এক পদাধিকারীর ইস্তফা দেওয়ার ঘটনা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, ভোটের ধাক্কা সামলে কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা তৃণমূলের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। গত দেড় দশকের তৃণমূল শাসনে বিরোধী রাজনৈতিক শিবির থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশের প্রধানতম অভিযোগই ছিল ‘দুর্নীতি’। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভই চাগাড় দিয়ে উঠেছে।
তৃণমূল জমানার গ্রাফের এই পতন আর শুধু শীর্ষ নেতৃত্বে সীমাবদ্ধ নেই, রাজ্যের ব্লকে ব্লকে এবং পুরসভাগুলিতেও তার আঁচ অত্যন্ত স্পষ্ট। একের পর এক পদত্যাগের ফলে কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক কাজকর্ম যেমন ব্যাহত হতে পারে, তেমনই পুরসভার নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কায় শাসকদলের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।