বাবার আসাম্পূর্ণ কাজ করতে চান প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সুমনা, ঘরের মেয়ে মন্ত্রী হওয়ায় খুশির হাওয়া বলাগড়ে!

হুগলির বলাগড় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে রাজ্যের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন বিজেপি বিধায়ক সুমনা সরকার। তাঁর এই সাফল্যে খুশির হাওয়া বলাগড় থেকে শুরু করে ত্রিবেণীর শ্বশুরবাড়িতে। সোমবার লোকভবনে শপথ গ্রহণ করার পর তিনি সোজা শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছালে প্রতিবেশী ও আত্মীয়রা তাঁকে ফুল এবং মিষ্টি দিয়ে সম্বর্ধনা জানান। প্রতিদ্বন্দ্বী হুগলি জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধারাকে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটে হারিয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর এই মন্ত্রিত্ব প্রাপ্তি সুমনার রাজনৈতিক জীবনে এক বড় মাইলফলক।
পারিবারিক অনুপ্রেরণা ও রাজনৈতিক উত্থান
সুমনা সরকারের রাজনীতিতে আসা মূলত তাঁর বাবা বীরেন সরকারকে দেখে, যিনি ১৯৭১ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম.এ করা সুমনা একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক দলীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি হুগলি জেলা পরিষদের সদস্য এবং পরবর্তীতে সহ-সভাধিপতি ছিলেন। ২০২১ সালে নরেন্দ্র মোদীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। এই সাফল্যের পেছনে তাঁর পরিবারের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। পুত্রবধূ মন্ত্রী হওয়ায় আনন্দিত শাশুড়ি নিভা সরকার স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি সুমনাকে সংসারে আটকে না রেখে দেশ ও দশের কাজের জন্য এগিয়ে দিতে চান।
উন্নয়নের রূপরেখা ও কর্মসংস্থানের জোয়ার
মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর সুমনা সরকার তাঁর নির্বাচনী এলাকার দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈত্রিক ভিটের উন্নয়ন এবং তাঁর বংশধরদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া বলাগড়ের নদী ভাঙনপ্রবণ এলাকায় বর্ষার পর নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস থেকে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক খোলনলচে বদলে দিতে ৯০০ একর জমির ওপর ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পোর্ট’ বা বন্দর তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই বন্দরটি নির্মিত হলে এলাকায় বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, যার ফলে উন্নত হবে রাস্তাঘাট ও স্থানীয় ব্যবসার পরিবেশ। এর পাশাপাশি বলাগড়ের ঐতিহ্যবাহী নৌকাশিল্প, ফুলের ক্লাস্টার এবং পানীয় জলের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছেন নতুন পদপ্রাপক এই মন্ত্রী।