ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ মাথায় নিয়েই বিশ্বকাপে ঘানার দলে থমাস পার্টে, বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্ক

বিশ্বকাপের দামামা বাজার মুখে মাঠের ফুটবলকে ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এল এক চরম বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। একাধিক ধর্ষণ ও যৌন নিগ্রহের গুরুতর অভিযোগে ব্রিটেনে বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে চলা আর্সেনালের প্রাক্তন মিডফিল্ডার থমাস পার্টেকে রেখেই ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করেছে ঘানা। ওয়েলসের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে মঙ্গলবার ভোরে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। ৩২ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে দলে রাখায় বিশ্ব ফুটবল মহলে নতুন করে নৈতিকতা ও আইনি বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
আইনি জটিলতা ও মাঠের বাইরের বিতর্ক
থমাস পার্টের বিরুদ্ধে ওঠা আইনি অভিযোগের তালিকাটি বেশ দীর্ঘ। গত বছর জুনে আর্সেনালের সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার পর বর্তমানে তিনি স্পেনের ক্লাব ভিয়ারিয়ালের হয়ে খেলছেন। পার্টের বিরুদ্ধে প্রথম দফায় পাঁচটি ধর্ষণ এবং একটি যৌন নিগ্রহের অভিযোগ আনা হয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বিরুদ্ধে আরও দুটি ধর্ষণের অভিযোগ যুক্ত হয়। চারজন মহিলার করা মোট সাতটি ধর্ষণ ও একটি যৌন নিগ্রহের এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে চলার কথা রয়েছে। যদিও পার্টে ও তাঁর আইনজীবী জেনি উইল্টশায়ার শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। এই মামলার শুনানি চলতি বছরের নভেম্বরে হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ২০২৭ সালের গোড়ার দিকে গড়াতে পারে বলে জানা গেছে। বর্তমানে জামিনে মুক্ত থাকা পার্টের জন্য বিদেশ সফরের আগে পুলিশ প্রশাসনকে ওয়াকিবহাল করা বাধ্যতামূলক।
ক্রীড়াঙ্গনে প্রভাব ও ঘানার কৌশল
তীব্র আইনি বিতর্ক এবং স্টেডিয়ামে দর্শকদের একাংশের ক্রমাগত ক্ষোভ ও বিদ্রুপের শিকার হওয়া সত্ত্বেও পার্টেকে মাঠের বাইরে রাখেনি ঘানা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এর আগে ভিয়ারিয়ালের জার্সিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচেও তিনি মাঠে নেমেছিলেন। আইনি লড়াই চললেও ফুটবলীয় দক্ষতার নিরিখে পার্টেকে দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য বলে মনে করছে ঘানা ফুটবল কর্তৃপক্ষ। রোড আইল্যান্ডের প্রভিডেন্সে ঘাঁটি গড়তে চলা ঘানা দলে পার্টের পাশাপাশি ইনাকি উইলিয়ামস, জর্ডান আয়ুর মতো তারকাদের রাখা হয়েছে। গ্রুপ পর্বে পানামা, ইংল্যান্ড এবং ক্রোয়েশিয়ার মতো কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার আগে ঘানা দল পার্টের অভিজ্ঞতার ওপরই ভরসা রাখল। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চে দলটির পারফরম্যান্সের চেয়েও মাঠের বাইরের বিতর্কই যে বেশি গুরুত্ব পাবে, তা বলাই বাহুল্য।