কলেজ স্ট্রিটে কি বুলডোজার চলবে, হকার উচ্ছেদের আশঙ্কার মাঝেই স্পষ্ট বার্তা পুরসভার

ঐতিহ্যবাহী কলেজ স্ট্রিটের বইপাড়ায় হঠাৎ করেই উচ্ছেদের আশঙ্কায় দিন কাটছে শত শত বই বিক্রেতার। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপরীতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্ট্রিটের ফুটপাতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা চালানো কয়েকজন ব্যবসায়ীর দাবি, সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার কয়েকজন আধিকারিক এসে তাঁদের মৌখিকভাবে দোকান সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয় ভারতের বৃহত্তম তথা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই পুরনো বইয়ের বাজারে। তবে ব্যবসায়ীদের এই আশঙ্কা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডে স্পষ্ট জানিয়েছেন, বই বিক্রেতাদের উচ্ছেদের বিষয়ে পুরসভার তরফে কোনও নির্দেশ জারি করা হয়নি।
উদ্বেগের কারণ ও জীবিকার সংকট
বিধানসভা নির্বাচন মিটতেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ দখলদারি ও ফুটপাত হকার উচ্ছেদে কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। হাওড়া স্টেশনসহ একাধিক জায়গায় ইতিমধ্যে বুলডোজার চালিয়ে দোকানপাট ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। এই সাঁড়াশি অভিযানের আবহেই কলেজ স্ট্রিটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে উচ্ছেদের আতঙ্ক গ্রাস করে। বই বিক্রেতাদের মতে, কলেজ স্ট্রিট শুধু একটি বাজার নয়, এটি কলকাতার এক অনন্য ঐতিহ্য। কয়েক দশক ধরে একই জায়গায় ব্যবসা করার পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হাজারো কর্মচারীর জীবিকা। হঠাৎ করে দোকান সরাতে হলে অসংখ্য মানুষের রুটিরুজি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। তাছাড়া বইয়ের মতো পণ্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিবেশ ও পরিকাঠামোর প্রয়োজন হয়, যা অন্য কোথাও সহজে মেলা সম্ভব নয়।
পুরসভার অভয় ও ভবিষ্যতের প্রভাব
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডে জানিয়েছেন, কলেজ স্ট্রিটের বই বিক্রেতাদের উচ্ছেদ করার কোনও পরিকল্পনা বা নির্দেশ পুরসভার নেই এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। কোনও ব্যবসায়ী উচ্ছেদ সংক্রান্ত ভুয়ো মৌখিক নির্দেশ বা নোটিশ পেয়ে থাকলে তার সত্যতা যাচাই করার এবং প্রয়োজনে পুলিশ প্রশাসনের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পুরসভার এই আশ্বাসে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, রাজ্যের সার্বিক হকার উচ্ছেদ অভিযানের জেরে বইপাড়ার ব্যবসায়ীদের একাংশের মন থেকে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কার মেঘ পুরোপুরি কাটছে না।