মহিলাদের ফ্রি বাস সফরের প্রথম দিন, SBSTC-তে যাত্রী সংখ্যায় বিরাট চমক

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করল। ১ জুন থেকে রাজ্যজুড়ে চালু হয়েছে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে সরকারি বাস পরিষেবা। প্রথম দিনেই এই উদ্যোগকে ঘিরে রাজ্যবাসীর মধ্যে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গিয়েছে। বাসে উঠে নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র দেখিয়ে ‘জিরো-ভ্যালু’ টিকিট কাটতে হলেও, পকেট থেকে কোনো টাকা খরচ করতে হচ্ছে না নারীদের। বিনিপয়সার বাস ভাড়ার প্রথম দিনেই বাসস্ট্যান্ড ও টার্মিনাসগুলিতে ছিল উপচে পড়া ভিড়।
প্রথম দিনের চিত্র ও যাত্রী সংখ্যা
সোমবার সকাল থেকেই কলকাতা এবং সংলগ্ন জেলাগুলির বাস স্ট্যান্ডগুলিতে মহিলা যাত্রীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তীব্র গরমের কারণে অনেকেই সরকারি এসি বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। বাস কন্ডাক্টারদের সূত্রানুযায়ী, প্রতিটি রুটের বাসে প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ যাত্রীই ছিলেন মহিলা। বিশেষ করে বারাসাত-করুণাময়ী রুটের বিভিন্ন এসি বাসে বিপুল ভিড় দেখা যায়। সাধারণত অফিস টাইমে মহিলারা অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে চললেও, প্রথম দিন সেই চেনা ছবি বদলে গিয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম দিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শুধুমাত্র দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের (SBSTC) বাসেই প্রায় ৯ হাজার মহিলা যাত্রী সফর করেছেন। এছাড়া অন্যান্য নিগমের সরকারি বাসগুলিতেও মোট যাত্রীর প্রায় অর্ধেকই ছিলেন নারী। পরিষেবা খতিয়ে দেখতে প্রথম দিন রাস্তায় নামেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি গড়িয়াহাট থেকে রুবি পর্যন্ত একটি এসি বাসে সফর করেন এবং যাত্রীদের সাথে কথা বলেন। অন্যদিকে, রানি রাসমনি রোড সংলগ্ন বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে মহিলা যাত্রীদের হাতে টিকিট তুলে দেন বিধায়ক সজল ঘোষ।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও কারণ
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলির যাতায়াতের খরচ এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যাবে। প্রতিদিন যে সমস্ত কর্মজীবী মহিলা ও কলেজ ছাত্রীদের দূর-দূরান্তে যাতায়াত করতে হয়, তাঁদের মাসিক যাতায়াত খরচ এখন শূন্যে নেমে আসবে। তীব্র মূল্যবৃদ্ধির বাজারে এই বিনামূল্যে সফর মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলির জন্য বড় আর্থিক স্বস্তি নিয়ে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে প্রথম দিনের বিপুল ভিড় দেখে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, আগামী দিনে সরকারি বাসগুলিতে যাত্রী চাপ সামলানো এবং বাসের সংখ্যা বাড়ানো প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।