জনতাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রতিবাদ করতে দেবে না, ধর্না ইস্যুতে তোপ শমীকের

জনতাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রতিবাদ করতে দেবে না, ধর্না ইস্যুতে তোপ শমীকের

কলকাতায় ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ ও শাসক-বিরোধী সংঘাতের পারদ আরও চড়ল। রানি রাসমণি রোডে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নায় বসার অনুমতি না পাওয়া এবং পুলিশের বিকল্প প্রস্তাবের পর রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল সুপ্রিমোকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের জনগণ তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং মানুষই এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রতিবাদ করতে দেবে না।

অনুমতি বিতর্ক ও রাজনৈতিক সংঘাত

ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি ও কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির বিরোধিতায় রানি রাসমণি রোডে ধর্না কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে পুলিশ আইনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে সেখানে ধর্নার অনুমতি দেয়নি। পরিবর্তে তাঁদের ‘ওয়াই’ চ্যানেলে মাত্র দুই ঘণ্টার জন্য বিকল্প বসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। যদিও প্রাথমিক টানাপোড়েন শেষে তৃণমূল নেত্রী বিকল্প স্থানেই ধর্নায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাস্তায় নেমে জনগণের সামনে আসার মতো রাজনৈতিক অবস্থা এই মুহূর্তে তৃণমূলের নেই। মূল ইস্যু থেকে নজর ঘোরাতেই দলটির পক্ষ থেকে এই ধরনের কর্মসূচির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে।

ভোটের ফল ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলে বিজেপির বড়সড় সাফল্যের পর রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই বদলে গিয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে ভোট পরবর্তী হিংসা এবং দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। অন্য দিকে, বিরোধী শিবিরের মতে, তৃণমূলের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া ক্ষোভ ও কোন্দল ঢাকতেই এখন দিল্লির প্রসঙ্গ টানা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ধর্না ঘিরে এই প্রশাসনিক কড়াকড়ি এবং বিরোধী শিবিরের লাগাতার আক্রমণ আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলির পারস্পরিক দূরত্ব আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *