ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে দুই বছর পর নড়েচড় বসছে ইন্ডিয়া জোট, রণকৌশল সাজাতে দিল্লিতে মেগা বৈঠক

বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারকে কোণঠাসা করতে দীর্ঘ দুই বছর পর ফের একবার বড়সড় পদক্ষেপ নিচ্ছে কংগ্রেস তথা বিরোধী শিবির। কেন্দ্রের শাসকদলকে ধাক্কা দিতে এবং একটি শক্তিশালী যৌথ রণকৌশল তৈরি করতে ইন্ডিয়া ব্লকের সঙ্গীদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছে হাত শিবির। দলীয় সূত্রে খবর, জোটের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আগামী ৬ অথবা ৮ জুন নয়াদিল্লির কন্সটিটিউশন ক্লাবে এই স্ট্র্যাটেজিক মিটিংয়ের আয়োজন করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ভোট গণনার ঠিক আগে, ১ জুন নয়াদিল্লিতে এই জোটের শেষ আনুষ্ঠানিক সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ দুই বছর পর হতে চলা এই বৈঠককে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
জনস্বার্থবাহী ইস্যুতেই মোদী সরকারকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা
রাজনৈতিক মহলের মতে, দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া বিরোধী দলগুলি এবার জনবিরোধী নীতিকে হাতিয়ার করে ময়দানে নামতে চাইছে। দেশজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলি নিয়ে এই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। এই বিষয়গুলিকে সামনে রেখেই সংসদের ভেতরে ও বাইরে কেন্দ্রকে কোণঠাসা করার নীলনকশা সাজানো হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপাল ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বৈঠকে যোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। মেগা এই বৈঠকে প্রায় ১৫টি বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বৈঠকে যোগ দিতে পারেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব, শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে।
জোটের অন্দরে ভাঙন ও নতুন সমীকরণ
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর বিরোধী ঐক্যকে পুনরুজ্জীবিত করাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের রাজনৈতিক জমি কিছুটা হারানো তৃণমূল কংগ্রেস ও ডিএমকে-র দিকে বাড়তি নজর রয়েছে কংগ্রেসের। তবে রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির পরিবর্তনের কারণে এই বৈঠকের সমীকরণ কিছুটা জটিল। কংগ্রেস ডিএমকে-র সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে (TVK)-র হাত ধরায়, ডিএমকে-র এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। যদিও টিভিকে-কে বৈঠকে টানার চেষ্টা চালাচ্ছে কংগ্রেস। অন্যদিকে, আম আদমি পার্টি ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এই জোট থেকে দূরত্ব বজায় রাখার কথা ঘোষণা করায় তারাও এই বৈঠক থেকে দূরে থাকতে পারে। ফলে অভ্যন্তরীণ এই টানাপোড়েনের মাঝে আগামী সপ্তাহের এই বৈঠক ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে কতটা কার্যকরী হয়, এখন সেটাই দেখার।