শুটিং সেটে কর্মরত মায়েদের শিশুদের জন্য ঘর চান কঙ্গনা

শুটিং সেটে কর্মরত মায়েদের শিশুদের জন্য ঘর চান কঙ্গনা

বিনোদনের ঝলমলে দুনিয়ার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক কঠিন বাস্তবকে এবার সামনে নিয়ে এলেন বলিউড অভিনেত্রী ও সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। সিনেমা জগতের চকমকে আলোর আড়ালে শুটিং সেটের পরিকাঠামো যে এখনও নারী বা মায়েদের জন্য পুরোপুরি বান্ধব হয়ে ওঠেনি, তা নিয়ে এবার প্রকাশ্যেই সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর আসন্ন ছবি ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’-র প্রচারমূলক এক অনুষ্ঠানে সহ-অভিনেত্রীদের উপস্থিতিতে শুটিং সেটে কর্মরত মায়েদের সন্তানদের জন্য বিশেষ কক্ষের দাবি তুলেছেন এই ‘ক্যুইন’ অভিনেত্রী।

অভিজ্ঞতা থেকে জন্ম নেওয়া উপলব্ধি

কঙ্গনার এই প্রতিবাদের উৎস মূলত তাঁর নতুন ছবির শুটিং সেটের কিছু অভিজ্ঞতা। শুটিং চলাকালীন সহ-অভিনেত্রী স্মিতা তাম্বের দুই মেয়ে এবং অক্ষতের সন্তান প্রায়ই সেটে আসত। শিশুদের এই আনাগোনা এবং তাদের রাখার জায়গার অভাব দেখেই কঙ্গনার মনে এই ভাবনার উদয় হয়। তিনি স্পষ্ট জানান, কর্মক্ষেত্রে যখন প্রার্থনাকক্ষসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা থাকে, তখন শিশুদের জন্য আলাদা একটি নিরাপদ ঘরের ব্যবস্থা কেন থাকবে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে।

পেশা ও মাতৃত্বের টানাপোড়েন

অভিনেত্রীর মতে, বর্তমান যুগে মহিলারা অনেক বেশি কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং পেশায় নিজেদের প্রমাণ করছেন। মায়েরা একই সঙ্গে সংসার এবং কর্মক্ষেত্রের প্রতি দায়বদ্ধতার ভারসাম্য বজায় রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালান, যা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। কিন্তু শুটিং সেট বা কর্মক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ও সংবেদনশীল পরিকাঠামোর অভাবের কারণে অনেক সময়ই নারীদের নিজের স্বপ্ন এবং পরিবারের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে বাধ্য হতে হয়। কেবল নারীদের কাজে যোগ দিতে উৎসাহিত করলেই হবে না, বরং তাঁরা যাতে কোনো সংকোচ বা দুশ্চিন্তা ছাড়া সন্তানদের কাছাকাছি রেখে কাজ করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।

ভবিষ্যতের সম্ভাব্য প্রভাব

কঙ্গনা রানাউতের মতো একজন প্রভাবশালী তারকা এবং জনপ্রতিনিধির এই বক্তব্য সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির পরিকাঠামোয় বড় ধরনের বদল আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। নারীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারের যে লক্ষ্য রয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য কর্মক্ষেত্রকে শিশুবান্ধব করা অত্যন্ত জরুরি। এই দাবি যদি প্রযোজক ও স্টুডিও কর্তৃপক্ষের নজরে আসে, তবে আগামী দিনে শুটিং সেটগুলোতে মায়েদের কাজের পরিবেশ আরও সুরক্ষিত ও মানসিক চাপমুক্ত হবে, যা পরোক্ষভাবে বিনোদন শিল্পে নারী কর্মীদের কাজের পরিধি ও দক্ষতা আরও বাড়িয়ে তুলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *