ত্রাণ দুর্নীতিতে এবার জালে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ, উদ্ধার বিপুল সরকারি সামগ্রী!

বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক খোকন দাসের গ্রেফতারির রেশ কাটতে না কাটতেই পূর্ব বর্ধমানে ফের বড়সড় ধাক্কা খেল শাসকদল। সোমবার রাতে নাদনঘাট থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হলেন কালনার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি ত্রাণসামগ্রী ও তরুণ-তরুণীদের দেওয়ার জন্য বরাদ্দ খেলার সরঞ্জাম বণ্টন না করে নিজের বাড়িতে অবৈধভাবে মজুত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার গভীর রাতে তাঁকে আটক করার পর, মঙ্গলবার সকালে পুলিশ তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতারের কথা জানায়।
জনরোষ ও রুদ্ধদ্বার নাটক
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরেই দেবপ্রসাদের বিলাসবহুল জীবনযাত্রা এবং হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়া সম্পত্তি নিয়ে এলাকায় তীব্র অসন্তোষ ছিল। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এতদিন কেউ মুখ না খুললেও, সম্প্রতি পরিস্থিতি বদলাতেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সোমবার রাতে প্রাক্তন বিধায়কের বাড়িতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছানো মাত্রই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এবং কাতারে কাতারে মানুষ সেখানে জড়ো হন। বেগতিক বুঝে দেবপ্রসাদ ও তাঁর পরিবার দীর্ঘক্ষণ বাড়ির দরজা বন্ধ করে ভেতরে বসেছিলেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে গভীর রাতে তাঁকে আটক করা হয়।
জেলামুড়ে দুর্নীতির জাল এবং প্রভাব
তদন্তকারীদের মতে, এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। সম্প্রতি ত্রাণ বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগে কালনা-২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি প্রণব রায় গ্রেফতার হয়েছেন এবং পূর্বস্থলী উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়ে বিপুল সরকারি সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। এই ধারাবাহিক গ্রেফতারি ও তল্লাশি স্পষ্ট করছে যে, জেলাজুড়ে সরকারি প্রকল্পের সামগ্রী আত্মসাতের একটি বড় চক্র সক্রিয় ছিল। দেবপ্রসাদের গ্রেফতারির পর এই চক্রের গভীরতা এবং এর পেছনে অন্য কোনো প্রভাবশালী যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনায় জেলা রাজনীতিতে শাসকদল চরম অস্বস্তিতে পড়লেও, তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।