খালি পেটে রাজনীতি নয়, ‘লুচি’র স্মৃতি ফিরল কুণাল-তাপসের আড্ডায়

খালি পেটে রাজনীতি নয়, ‘লুচি’র স্মৃতি ফিরল কুণাল-তাপসের আড্ডায়

বাংলার রাজনীতিতে সৌজন্যের ইতিহাস বহু পুরনো। ভোটের ময়দানে লড়াই বা মতাদর্শগত তীব্র বিরোধিতা থাকলেও, ব্যক্তিগত স্তরে পারস্পরিক সম্পর্কের উষ্ণতা বারবার সামনে এসেছে। ১৯৫২ সালে স্বাধীন ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় এবং বিরোধী শিবিরের তরুণ নেতা জ্যোতি বসুর মধ্যকার সেই ঐতিহাসিক ‘লুচি-কূটনীতি’র স্মৃতিই যেন নতুন করে উসকে দিল ২০২৬ সালের বিধানসভা চত্বর। সৌজন্যের সেই আবহ ফিরিয়ে আনলেন তৃণমূল কংগ্রেসের কুণাল ঘোষ এবং বর্তমান বিজেপি সরকারের মন্ত্রী তাপস রায়।

সাত দশক পুরনো স্মৃতি ও বর্তমানের আড্ডা

১৯৫২ সালে ট্রাম ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদের মিছিলে যাওয়ার পথে জ্যোতি বসুকে গাড়ি থামিয়ে ডেকেছিলেন বিধানচন্দ্র রায়। রসিকতা করে বলেছিলেন, “খালি পেটে বিধান রায় আর কংগ্রেসকে হারানো যাবে না। গাড়িতে এসো, খানকয়েক লুচি আছে, দু’জনে মিলে খাই।” ঠিক একই রকম এক হালকা মেজাজের সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। দল ভাঙা আর নানাবিধ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে বিধানসভার গেটের সামনে মুখোমুখি হন কুণাল ঘোষ ও তাপস রায়। রাজনৈতিক খোঁচাখুঁচি দিয়ে আলোচনা শুরু হলেও মুহূর্তের মধ্যেই তা রূপ নেয় এক ঘরোয়া আড্ডায়।

সম্পর্কের সমীকরণ ও রাজনৈতিক প্রভাব

তীব্র রাজনৈতিক বিরোধিতার মাঝেও দুই নেতার এই পারস্পরিক সৌজন্য রাজ্য রাজনীতিতে এক ইতিবাচক বার্তা দেয়। সামনাসামনি হতেই তাপস রায় যখন ধর্মতলার জনসভা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, কুণাল ঘোষও পাল্টা জবাব দিতে ছাড়েননি। তবে এই টানটান বাদানুবাদ নিমেষেই ঢাকা পড়ে যায় পুরনো ছাত্রজীবনের স্মৃতিরোমনথনে। কুণাল ঘোষ যখন মনে করিয়ে দেন তাপস রায় তাঁর কলেজের সিনিয়র ছিলেন, তখন সমস্ত রাজনৈতিক তিক্ততা ভুলে হেসে ফেলেন বিজেপি মন্ত্রী। বিদায়বেলায় কুণাল ঘোষের “লুচি আর পটল ভাজা” খাওয়ার আবদার এবং হাসিমুখে করমর্দন প্রমাণ করে যে, মতাদর্শের লড়াই চললেও ব্যক্তিগত স্তরে বাঙালির রাজনৈতিক সৌজন্য আজও ফুরিয়ে যায়নি। এই ধরনের ঘটনা কর্মী-সমর্থকদের মাঝেও রাজনৈতিক হিংসা ও তিক্ততা কমিয়ে সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *