মেকানিক থেকে দুর্নীতির শেহনশাহ, কালনার প্রাক্তন বিধায়কের রকেট গতির উত্থান ও পতন

একসময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে রেডিও এবং টিভি সারাই করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন দেবপ্রসাদ বাগ ওরফে পল্টু। কিন্তু তৎকালীন শাসকদলের ছত্রছায়ায় আসতেই যেন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ হাতে পেয়ে যান তিনি। কালনা পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান থেকে চেয়ারম্যান, আর তারপর সরাসরি বিধায়ক পদের সিঁড়ি বেয়ে কয়েক বছরের মধ্যেই কোটি কোটি টাকার সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন তিনি। সাধারণ মেকানিক থেকে বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদের মালিক হয়ে ওঠার এই রকেট গতির উত্থান কালনাবাসীর চোখ কপালে তুলেছিল। সোমবার রাতে নিজের সেই প্রাসাদোপম বাড়ি থেকেই সরকারি ত্রাণসামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে পুলিশি অভিযানে হাতেনাতে গ্রেপ্তার হলেন এই প্রাক্তন বিধায়ক।
ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিলাসবহুল সাম্রাজ্য
তদন্তে প্রকাশ, দেবপ্রসাদ বাগের এই আকাশছোঁয়া প্রতিপত্তির নেপথ্যে রয়েছে সরকারি ক্ষমতার চরম অপব্যবহার। কালনা-২ ব্লকের ধৃত তৃণমূল সভাপতি প্রণব রায়কে নিজের ‘গুরু’ বলে পরিচয় দিতেন এই প্রাক্তন বিধায়ক। গুরু এবং শিষ্যের যৌথ কারসাজিতেই দিনের পর দিন সরকারি সম্পত্তি ও সাধারণ মানুষের জন্য আসা ত্রাণসামগ্রী আত্মসাৎ করা হতো বলে অভিযোগ। এই বিপুল দুর্নীতির টাকায় তৈরি হয়েছে তাঁর ঝাঁ চকচকে অট্টালিকা, যার ভেতরে রয়েছে গোপন ভূগর্ভস্থ ঘর, আকাশছোঁয়া দামি আসবাবপত্র এবং ছাদে ওয়াটার ফিল্টারের জলে স্নানের রাজকীয় ব্যবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মনে ক্ষোভ জমা হলেও রাজনৈতিক দাপটের কারণে কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি।
আইনি পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার গভীর রাতে কালনা থানার পুলিশ প্রাক্তন বিধায়কের বাড়িতে হানা দেয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পাঁচিল টপকে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি, পুলিশের খপ্পরে ধরা পড়েন তিনি। তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ মজুত করা সরকারি ত্রাণ ও খেলার সামগ্রী। এই গ্রেপ্তারি এবং দুর্নীতির পর্দাফাঁসের ফলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এবং স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত জনরোষ আছড়ে পড়েছে। পুলিশ সূত্র মারফত জানা গেছে, এই বিপুল পরিমাণ সরকারি সামগ্রী মানুষের মধ্যে বণ্টন না করে বাড়িতে মজুত করার আসল উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি যুক্ত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হচ্ছে।