দেড় বছরের শিশুর শরীরে ৫১টি ক্ষত, পাষণ্ড প্রেমিকের নির্মমতায় কেঁপে উঠল কেরল

কেরলের নেদুমানাগড়ের পানাভুরে এক দেড় বছরের শিশুকে পিটিয়ে ও অকথ্য নির্যাতন চালিয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মায়ের সামনেই তাঁর লিভ-ইন সঙ্গী এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায়। প্রাথমিকভাবে শিশুটির মা গলায় খাবার আটকে মৃত্যুর দাবি করলেও, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শিশুটির শরীরে ৫১টি ক্ষতচিহ্ন এবং যৌনাঙ্গে গভীর আঘাতের বিষয়টি সামনে আসে। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত প্রেমিক আকসার ও শিশুটির মাকে গ্রেফতার করেছে।
পরিকল্পিত নির্যাতন ও নৃশংসতা
পুলিশি তদন্ত ও জেরায় জানা গেছে, অভিযুক্ত আকসার প্রায় তিন মাস আগেই শিশুটিকে খুন করার পরিকল্পনা করেছিল। প্রেমিকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে শিশুটি বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল বলেই তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সে। গত এক মাস ধরে শিশুটির ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। এর আগে শিশুটির দুটি হাত ভেঙে দেওয়া হলেও প্রতিবেশীদের কাছে তা সাইকেল থেকে পড়ে যাওয়ার দুর্ঘটনা বলে চালানো হয়। গত ২৯ মে শিশুটি কান্নাকাটি করায় আকসার লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা ও আইনি প্রভাব
হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধ ঢাকতে ঘর পরিষ্কার করা হয় এবং মারধরের প্রমাণ লুকাতে শিশুটির মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া হয়েছিল। নির্যাতন ও সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত লাঠি ও লাইটার পুলিশ বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় নীরব দর্শক হিসেবে ভূমিকা পালন করায় শিশুটির মা-ও সমানভাবে অপরাধী বলে বিবেচিত হচ্ছেন। এই ঘটনাটি লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে শিশুদের নিরাপত্তা এবং পারিবারিক সহিংসতার এক ভয়াবহ রূপকে সামনে এনেছে, যা সমাজ ও আইনি ব্যবস্থার জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ।