“আমি অনেক পাপ করেছি!”—অভাব আর দুশ্চিন্তার ভারে নিজের অঙ্গচ্ছেদ করলেন কৃষক!

অসহায়ত্বের চরম পরিণাম! মেয়ের বিয়ে আর স্ত্রীর চিকিৎসা খরচের চাপে নিজের অঙ্গহানি করলেন কৃষক
মধ্যপ্রদেশের ছত্রপুর জেলায় ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনা জনমনে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পারিবারিক দায়িত্ব আর তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের চাপে পিষ্ট হয়ে ৪২ বছর বয়সী এক কৃষক নিজের শরীরের ওপরই নিষ্ঠুর আঘাত হেনেছেন। বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
আর্থিক দুশ্চিন্তা ও চরম সিদ্ধান্ত
জানা গেছে, ওই কৃষকের স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে শয্যাশায়ী। পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তিনি। এর ওপর আগামী ২৫ জুন তার বড় মেয়ের বিয়ের দিন ধার্য ছিল। একদিকে স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ, অন্যদিকে মেয়ের বিয়ের আয়োজন—এই দুইয়ের চাপে পড়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ওই ব্যক্তি। ঘটনার দিন সকালে নিজের কৃষি জমিতে গিয়ে অদ্ভুত মানসিক বিভ্রান্তি থেকে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, নিজের সমস্ত কষ্টের মূল কারণ তার শরীর। এই ভুল ধারণা থেকেই গামছা বা কুঠারের মতো ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিজের গোপনাঙ্গ কেটে পাশের কুয়ায় ফেলে দেন তিনি।
বিপর্যয়ের কারণ ও প্রভাব
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে কাতর কৃষক নিজেই ফোন করে বিষয়টি পরিবারকে জানান। স্বজনরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রক্তক্ষরণ এতই বেশি হয়েছে যে তার অবস্থা সংকটাপন্ন। দারিদ্র্য এবং পরিস্থিতির কাছে অসহায়ত্বের এই বহিঃপ্রকাশ সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবকে প্রকট করে তুলেছে। একদিকে অভাবের তাড়না, অন্যদিকে কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানসিক বিপর্যস্ততা কীভাবে একটি পরিবারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে, এই ঘটনা তার একটি করুণ নিদর্শন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে।