হাতে গোনা কয়েকজন বিধায়ক নিয়ে ফ্লপ মমতার ধর্না, ‘দলটা এখন ফলতার মতো’ কটাক্ষ শুভেন্দুর

হাতে গোনা কয়েকজন বিধায়ক নিয়ে ফ্লপ মমতার ধর্না, ‘দলটা এখন ফলতার মতো’ কটাক্ষ শুভেন্দুর

ভোটে ভরাডুবির পর প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেমেই বড়সড় ধাক্কা খেলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খাতায়-কলমে এখনো দলটির হাতে ৭৮ জন বিধায়ক থাকলেও, মঙ্গলবার ওয়াই চ্যানেলের ধর্নামঞ্চে দেখা মিলল মেরেকেটে মাত্র ৬ জনের। আর বিরোধী শিবিরের এই কঙ্কালসার দশা নিয়ে তারকেশ্বরের প্রশাসনিক সফরের মাঝেই তীব্র টিপ্পনী কাটলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলের এই নজিরবিহীন সাংগঠনিক ধসকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এত দূরবস্থা! দলটা পুরো ফলতার মতো হয়ে গিয়েছে।”

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দেন, নির্বাচনের পর তৃণমূল নেত্রী নিজেকে যতই ‘অপরাজিত’ দাবি করুন না কেন, দলের অন্দরে তাঁর পায়ের তলার মাটি যে সম্পূর্ণ সরে গিয়েছে, তা মঙ্গলবারের কর্মসূচিই প্রমাণ করে দিল। তারকেশ্বরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “শুনলাম ৩ জন এমপি, ৬ টা বিধায়ক গিয়েছে। দলটার অবস্থা ফলতার মতো হয়ে গিয়েছে।”

শক্তি পরীক্ষায় ব্যর্থ মমতা, তুঙ্গে ‘স্যালাইন’ বিতর্ক

ছাব্বিশের নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর গত রবিবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে জয়ী বিধায়কদের নিয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সেখানেও মেরেকেটে ২০ জনের মতো বিধায়ক উপস্থিত থাকায় তড়িঘড়ি বৈঠকটি বাতিল করতে হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই ধাক্কা সামলাতে মঙ্গলবার ওয়াই চ্যানেলের ধর্নাকে আসলে ঘুরপথে একটি শক্তি পরীক্ষার কৌশল হিসেবেই বেছে নিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু সেখানেও দলনেত্রী সম্পূর্ণ ব্যর্থ হলেন। ৫ জন সাংসদ এবং ৬ জন বিধায়ক মিলিয়ে ১৫ জনকেও পাশে পেলেন না তিনি। নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র, ববি হাকিম, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়দের মতো গুটি কয়েক আদি নেতা ছাড়া তরুণ মুখের কাউকেই দেখা গেল না নেত্রীর পাশে।

অন্য দিকে, ধর্নামঞ্চে লোক জমাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বারবার বিধায়কদের ফোন করছিলেন বলে খবর ছড়ায়। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী স্বভাবসিদ্ধ রসিকতার সুরে খোঁচা দিয়ে বলেন, “উনি তো শুনলাম অসুস্থ! স্যালাইন নিচ্ছেন। অসুস্থ হলে এত ফোন করা যায় নাকি!” শুভেন্দুর এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে, অভিষেকের তথাকথিত ‘অসুস্থতা’ এবং দলের ওপর থেকে তাঁর নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিষয়টিকে বর্তমান শাসকদল কতটা উপহাসের ছলে দেখছে।

ভাঙনের দায় বিজেপির ওপর, চেনা মেজাজে হুঙ্কার

ধর্নামঞ্চে লোক না থাকলেও নিজের চেনা মেজাজেই ধরা দিতে চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওয়াই চ্যানেলের ধর্নামঞ্চ থেকে বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি হুঙ্কার দেন, “জিয়েঙ্গে তো বিজেপি কো হাটাকে যায়েঙ্গে” (বেঁচে থাকলে বিজেপিকে হটিয়েই ছাড়ব)। দলের এই নজিরবিহীন ভাঙন ও দূরবস্থার জন্য সরাসরি গেরুয়া শিবিরকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি দাবি করেন, ভয় দেখিয়ে বা প্রলোভন দিয়ে তাঁদের বিধায়ক-সাংসদদের ভাঙিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের এই ফল এবং কর্মসূচিতে দলীয় নেতৃত্বের এমন অনুপস্থিতি তৃণমূলের অন্দরে এক গভীর নেতৃত্ব সংকট ও সাংগঠনিক ফাটলকে সামনে এনে দিয়েছে। আগামী দিনে এই ধস সামাল দিয়ে দল কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায়, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *