তোলাবাজি রুখতে লালবাজারের নজিরবিহীন অ্যাকশন, ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে শ্রীঘরে কলকাতার দুই হেভিওয়েট তৃণমূল কাউন্সিলর!

তোলাবাজি রুখতে লালবাজারের নজিরবিহীন অ্যাকশন, ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে শ্রীঘরে কলকাতার দুই হেভিওয়েট তৃণমূল কাউন্সিলর!

কলকাতা জুড়ে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট সংস্কৃতির শিকড় উপড়ে ফেলতে এবার নজিরবিহীনভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। লালবাজারের এই অতর্কিত ও একের পর এক সাঁড়াশি অভিযানে কার্যত চরম অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তোলাবাজি ও ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) আরও দুই বর্তমান তৃণমূল কাউন্সিলর। গত দশ দিনে এই নিয়ে কলকাতার মোট তিন জন হেভিওয়েট জনপ্রতিনিধি পুলিশের জালে ধরা পড়লেন, যা এই মুহূর্তে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগের তির ও মাঝরাতে জোড়া গ্রেফতারি

পুলিশি সূত্রের খবর, মঙ্গলবার রাতে কলকাতা পুরসভার ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের দাপুটে কাউন্সিলর অরিজিৎ দাস ঠাকুরকে গ্রেফতার করেছে গড়ফা থানার পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে এলাকার স্থানীয় প্রোমোটার এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আবাসন নির্মাণ ও ব্যবসা সচল রাখার নামে মোটা অঙ্কের কাটমানি এবং হুমকি দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায়ের লিখিত অভিযোগ ছিল। প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা মেলার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে থানায় ডাকা হয় এবং বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

এই ঘটনার সমসময়েই উত্তর কলকাতায় ঘটে দ্বিতীয় গ্রেফতারির ঘটনাটি। ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শচীন সিংহকে নারকেলডাঙা থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাতেই লোহার গরাদের ওপারে পাঠিয়ে দেয়। তাঁর বিরুদ্ধেও দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য তথ্যপ্রমাণ মিলেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। এর আগে গত ২৩ মে রাতে ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা বেহালা অঞ্চলের ১৬ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান সুদীপ পোল্লের গ্রেফতারির পর এই জোড়া ধাক্কা শাসকদলের অন্দরে বড়সড় কম্পন তৈরি করেছে।

কারণ ও প্রশাসনিক শুদ্ধিকরণের সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই লাগাতার গ্রেফতারির মূল কারণ হলো দীর্ঘদিন ধরে চলা সিন্ডিকেট রাজ ও কাটমানি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আমজনতা এবং ব্যবসায়ীদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। স্থানীয় স্তরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নগদ দাবি করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসছিল। প্রশাসনের এই আকস্মিক ও কঠোর পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে শহরের রিয়েল এস্টেট ব্যবসা এবং ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সাথে, দুর্নীতিগ্রস্ত জনপ্রতিনিধিদের এই পরিণতি নীচুতলার রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য একটি কড়া বার্তা। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, রাজ্যে প্রশাসনিক সংস্কার ও শুদ্ধিকরণের যে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছিলেন, পুলিশের এই ব্যাক-টু-ব্যাক গ্রেফতারির ঘটনা তারই সরাসরি প্রতিফলন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *