তোলাবাজির রাজত্ব: গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর, এলাকায় চাঞ্চল্য!

তোলাবাজির অভিযোগে উত্তাল রাজ্য, পুলিশের জালে তৃণমূলের দাপুটে কাউন্সিলর
কলকাতা পুরসভার ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরিজিৎ দাস ঠাকুরের গ্রেফতারি ঘিরে নতুন করে অস্বস্তিতে শাসকদল। প্রোমোটার ও ব্যবসায়ীদের থেকে জোরপূর্বক তোলা আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে গড়ফা থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী এই নেতার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের তোলাবাজির অভিযোগ থাকলেও, এবার একজন প্রোমোটারের অভিযোগের ভিত্তিতে কঠোর পদক্ষেপ নিল প্রশাসন।
ব্যবসায়ীদের আতঙ্কের কারণ অরিজিৎ
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শঙ্কর দাস নামে এক প্রোমোটারের কাছে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন অরিজিৎ। প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সেই দাবির প্রেক্ষিতে প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তৃণমূলের আইটি সেলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এই কাউন্সিলর শহরতলির বর্ষীয়ান নেতা দুলাল দাস ঠাকুরের ছেলে। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এলাকায় নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ দোকানদারদের থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের তোলা আদায়ের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের। আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়ায় এখন তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
রাজ্যজুড়ে দুর্নীতি দমনে কঠোর প্রশাসন
শুধু দক্ষিণ কলকাতা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসছে। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের হাসনাবাদে স্থানীয় তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি পিন্টু মোল্লা ওরফে সেলিমের গ্রেফতারি ও পরবর্তী ঘটনাক্রম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ভোট পরবর্তী হিংসা, জমি দখল এবং মাছের ভেরি লুটের অভিযোগে ধৃত এই নেতাকে কোমরে দড়ি বেঁধে গ্রামে ঘোরানো এবং তার আস্তানা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হওয়ার ঘটনাটি তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও তোলাবাজির এই প্রবণতা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে, যার প্রভাব আসন্ন দিনগুলোতে রাজনৈতিক সমীকরণে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল।