মেসি ইভেন্ট ঘিরে তুমুল অশান্তি, এবার পুলিশি সমন পেলেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস

মেসি ইভেন্ট ঘিরে তুমুল অশান্তি, এবার পুলিশি সমন পেলেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস

কলকাতায় ফুটবল সম্রাট লিয়োনেল মেসিকে আনার মেগা ইভেন্ট এবং যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের বিশৃঙ্খলা বিতর্ক এবার আইনি লড়াইয়ে রূপ নিল। রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী তথা প্রবীণ রাজনীতিক অরূপ বিশ্বাসকে সমন পাঠাল বিধাননগর দক্ষিণ থানা। আগামী ৫ জুন তাঁকে সশরীরে থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে খোদ প্রাক্তন মন্ত্রীর এই আইনি নোটিস পাওয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতি ও ক্রীড়ামহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

শতদ্রুর আইনি হুঙ্কার ও ১০০ কোটির মামলা

মেসি-অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক তথা প্রখ্যাত ক্রীড়া সংগঠক শতদ্রু দত্তের অভিযোগের ভিত্তিতেই বিধাননগর দক্ষিণ থানায় এই মামলা দায়ের হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে মামলার নথির অনুলিপি প্রকাশ করে শতদ্রু একে “সত্যের জয়” বলে আখ্যা দিয়েছেন। এখানেই শেষ নয়, প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ, ব্যবসায়িক ক্ষতি ও মানহানির দেওয়ানি মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। শতদ্রুর দাবি, এই সুপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের ফলে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের শান্তি, ব্যবসায়িক সুনাম এবং আন্তর্জাতিক স্তরের ফুটবল অনুষ্ঠানের বাণিজ্যিক স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই মামলায় অরূপ বিশ্বাসের পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সদস্য এবং কয়েকজন সাংবাদিককেও বিবাদী করা হচ্ছে।

নেপথ্যের কারণ ও কঠোর ধারার আবেদন

ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ডিসেম্বরে, যখন শতদ্রু দত্তের উদ্যোগে লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ এবং রদ্রিগো ডি’পল কলকাতায় আসেন। যুবভারতীতে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানের টিকিট নিয়ে চরম উন্মাদনা তৈরি হলেও, মূল অনুষ্ঠানের দিন গ্যালারির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং মাঠে দর্শক ঢুকে পড়ায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় অনুষ্ঠানটি কার্যত ভেস্তে যায় এবং আয়োজক শতদ্রু দত্তকে সেই সময় গ্রেফতারও হতে হয়েছিল। বর্তমানে শতদ্রুর দাবি, তাঁর কাছে থাকা সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি ষড়যন্ত্র (১২০বি), প্রতারণা, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো একাধিক কঠোর ধারা যুক্ত করার আবেদন জানানো হবে।

ক্রীড়া ও রাজনৈতিক মহলে সম্ভাব্য প্রভাব

এই ঘটনার প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক স্তরের একটি ফুটবল ইভেন্টে চরম অব্যবস্থাপনা এবং পরবর্তীকালে আইনি জটিলতা কলকাতার ক্রীড়া পরিকাঠামো ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই ধরনের পুলিশি সক্রিয়তা এবং এফআইআর রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর আরও বাড়িয়ে দেবে। ৫ জুনের পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের পর এই মামলার গতিপ্রকৃতি কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *