পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ নয়, যাদবপুরে মাঝরাতের বুলডোজার আতঙ্ক রুখল বামেদের প্রতিরোধ

যাদবপুর রেল স্টেশন চত্বরে গভীর রাতে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। হাওড়া ও শিয়ালদহের পর এবার যাদবপুরেও রেলের বুলডোজার অভিযান চালানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে বাম নেতৃত্বের তৎপরতা এবং স্থানীয় হকারদের জোরালো প্রতিরোধের মুখে পড়ে আপাতত সেই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে রেল প্রশাসন। পুনর্বাসন ছাড়া কোনওভাবেই উচ্ছেদ করা যাবে না, এই দাবিতে সরব হয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
মাঝরাতে বুলডোজার আতঙ্ক ও প্রতিরোধ
মঙ্গলবার রাতে আচমকাই যাদবপুর স্টেশনের বাইরে উচ্ছেদের জন্য বুলডোজার এসে হাজির হলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর আগেই শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশন চত্বরে রেলের মেগা অভিযানে প্রায় ৫০০টি দোকান ও ঝুপড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই একই আশঙ্কায় গভীর রাতেই রুখে দাঁড়ায় বামফ্রন্ট। যুব সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বাম কর্মী-সমর্থকরা স্টেশন চত্বরে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং হকারদের পাশে দাঁড়িয়ে রাত জাগার সিদ্ধান্ত নেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রেল কর্তৃপক্ষ কোনও আগাম নোটিস বা সতর্কবার্তা না দিয়েই সম্পূর্ণ আচমকা এই উচ্ছেদ অভিযান চালানোর চেষ্টা করেছিল।
আইনি লড়াই ও পুনর্বাসনের দাবি
তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত পিছু হটে রেল ও পুলিশ প্রশাসন। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়, আগামী তিন সপ্তাহ যাদবপুরে কোনও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে না। সৃজন ভট্টাচার্য জানান, ১৯৮৮ সালের একটি আইনি রায় অনুযায়ী, বিকল্প কর্মসংস্থান বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে এখানকার ব্যবসায়ীদের সরানো যাবে না। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এবং প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র আদালতের সামনে হাজির করে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
উচ্ছেদের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রেল সূত্রের খবর, স্টেশন চত্বরকে সম্পূর্ণ বেআইনি দখলদার মুক্ত করতেই এই ধারাবাহিক মেগা অভিযান চালানো হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রক্রিয়া থমকে থাকলেও সম্প্রতি রেল প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। যদি শেষ পর্যন্ত যাদবপুরে এই উচ্ছেদ অভিযান সফল হয়, তবে কয়েকশো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারের রুজি-রুটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, এই উচ্ছেদ রুখতে রাজনৈতিক দলগুলির হস্তক্ষেপের ফলে আগামী দিনে রেলের উন্নয়নমূলক কাজ এবং স্টেশন আধুনিকীকরণের প্রক্রিয়া আইনি জটিলতায় পড়তে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।