দিল্লিতে শাহী বৈঠক, বাংলায় কি এবার মহারাষ্ট্র মডেলের পুনরাবৃত্তি

দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে হঠাৎই পারদ চড়তে শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের মাঝে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুর একযোগে রাজধানীতে উপস্থিতি ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের অঙ্ক মেলাতে শুরু করেছেন বিশেষজ্ঞরা। মঙ্গলবার রাতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের বাসভবনে একটি হাই-ভোল্টেজ বৈঠক সম্পন্ন হয়, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী ও স্পিকারের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। এই বৈঠকের পর থেকেই জল্পনা তীব্র হয়েছে যে, যে কৌশলে মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনায় ভাঙন ধরানো হয়েছিল, সেই একই ‘একনাথ শিন্ডে মডেল’ এবার পশ্চিমবঙ্গেও প্রয়োগ হতে চলেছে।
নেপথ্যের কারণ ও বিকল্প কৌশল
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ানোর ক্ষেত্রে একাধিক আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা রয়েছে। পাশাপাশি, বাংলার রাজনীতিতে দলবদলের এই চেনা ছক সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা দিতে পারে বলে মনে করছে গেরুয়া শিবিরের একাংশ। যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করে বিজেপি জনসমর্থন পেয়েছে, সেই দলের নেতাদের সরাসরি দলে টেনে পুরস্কৃত করলে জনমানসে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। এই জটিলতা এড়াতেই ‘মহারাষ্ট্র মডেল’কে বেছে নেওয়া হচ্ছে, যেখানে মূল দলকে অক্ষুণ্ণ রেখে একটি বড় অংশকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা করা হয়। আর এই সম্পূর্ণ রণকৌশলের নেপথ্যে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, যিনি বিরোধী শিবিরের দুর্বলতা চিহ্নিত করে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টিতে অত্যন্ত পারদর্শী।
সুদূরপ্রসারী প্রভাবের আশঙ্কা
এই নতুন সমীকরণ বাস্তবায়িত হলে বাংলার রাজনীতিতে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে। দল ভাঙানোর আইনি জটিলতা এড়াতে রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে, আর সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী ও স্পিকারের এই যৌথ দিল্লি সফর। যদি এই মডেল সফল হয়, তবে বিরোধী শিবিরের শক্তি এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যাবে এবং শাসক দল আইনি ও রাজনৈতিকভাবে চরম সংকটে পড়বে। সব মিলিয়ে, নীতিন নবীনের বাড়ি থেকে বের হওয়া শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় বাংলার শাসন ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।