তীব্র গরমের মাঝেই কালবৈশাখীর কামব্যাক, ৫ দিন ধরে রাজ্যজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা

তীব্র দাবদাহে যখন পুড়ছে রাজ্য, ঠিক তখনই আবহাওয়ার বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে ফের কামব্যাক করছে কালবৈশাখী। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং প্রবল ঝোড়োহাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই আগামী ৫ জুন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।
ঘূর্ণাবর্তের জেরে আবহাওয়ার ভোলবদল
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই আকস্মিক পরিবর্তনের প্রধান কারণ একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত। উত্তর-পূর্ব এবং সংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর এই ঘূর্ণাবর্তটি অবস্থান করছে। এর প্রভাবে সাগর থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প হু হু করে রাজ্যে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এই অনুকূল পরিস্থিতির জেরে আগামী কয়েকদিন রাজ্যজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির তীব্রতা বজায় থাকবে। ৫ জুন পর্যন্ত উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গে হলুদ সতর্কতা ও দক্ষিণবঙ্গের অস্বস্তি
দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলা— দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। এই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। পাহাড়ি অঞ্চলের পাশাপাশি সমতলের জেলাগুলিতেও বুধবার থেকে ঝড়-বৃষ্টির দাপট বাড়বে। তবে বৃষ্টির এই পূর্বাভাসের মধ্যেও দক্ষিণবঙ্গবাসীর অস্বস্তি পুরোপুরি কাটছে না। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ভ্যাপসা গরম বজায় থাকবে এবং কোথাও কোথাও তাপমাত্রা সামান্য বাড়তেও পারে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও সুরক্ষার বার্তা
টানা ঝড়-বৃষ্টির জেরে স্থানীয়ভাবে নিচু এলাকায় জল জমা, গাছ উপড়ে পড়া কিংবা বিদ্যুৎ পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বজ্রপাতের ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে সাধারণ মানুষকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে হাওয়া অফিস। ঝড়-বৃষ্টি চলাকালীন খোলা মাঠ বা ফাঁকা জায়গায় না থাকার এবং বড় গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা দুর্বল কাঠামোর নিচে আশ্রয় না নেওয়ার জন্য নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।