৬০০-৭০০ জনের পাশবিক নির্যাতন! ব্রিটিশ সংসদে পাক গ্যাংয়ের নৃশংসতার বিস্ফোরক তথ্য

এক কিশোরীর ওপর ৬০০ জনের পাশবিক নির্যাতন! ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ফাঁস হলো গা শিউরে ওঠা তথ্য
ব্রিটেনের পার্লামেন্টে ব্রিটিশ এমপি রুপার্ট লো-এর এক চাঞ্চল্যকর বক্তব্যে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। দਹਾধিক সময় ধরে চলা শিশু যৌন নির্যাতন এবং ‘গ্রুমিং গ্যাং’-এর ভয়াবহ কর্মকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরে তিনি সরকারি ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। নিজের স্বতন্ত্র তদন্ত থেকে প্রাপ্ত ভয়াবহ সব তথ্য পার্লামেন্টে উপস্থাপন করার পর সভার সদস্যরা রীতিমতো স্তব্ধ হয়ে যান।
নারকীয় নির্যাতনের বিভীষিকা
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, নির্যাতনের মাত্রা ছিল অকল্পনীয়। মাত্র ১২-১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী জানিয়েছে, তিন বছরের ব্যবধানে তাকে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ জন ব্যক্তি যৌন নির্যাতনের শিকার বানিয়েছে। শুধু তাই নয়, নির্যাতনের সময় বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে। অপরাধীরা তাদের শিকার করা কিশোরীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালাত। এমনকি পোষা প্রাণীর খাঁচায় আটকে রেখে এবং হিংস্র প্রাণীর ভয় দেখিয়ে তাদের ওপর পাশবিক অত্যাচার চালানোর মতো নজিরও রয়েছে। অপরাধীরা মূলত শ্বেতাঙ্গ ও খ্রিস্টান ধর্মের কিশোরীদের লক্ষ্যবস্তু করত এবং মুখ খুললে পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিত।
সিস্টেমের ব্যর্থতা ও দীর্ঘদিনের সংকট
এই অমানবিক কর্মকাণ্ডের মূলে মূলত পাকিস্তান বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের পরিচালিত বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। ইয়র্কশায়ারের রোদারহাম শহর থেকে এই নির্যাতনের ভয়াবহ সত্য প্রথম প্রকাশ্যে আসে, যেখানে ১৯৯৭ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ১৪০০-এর বেশি শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। পরবর্তীতে রোচডেল, অক্সফোর্ড এবং ব্রিস্টলসহ ব্রিটেনের প্রায় ৫০টি শহরে একই ধরনের অপরাধ চক্রের অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়েছে। এই ভয়াবহ অপরাধগুলো দীর্ঘকাল ধরে চলার পেছনে স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতাকে দায়ী করা হচ্ছে। ২০২৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের নির্দেশে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হলেও, সাম্প্রতিক এই তথ্য প্রমাণ করছে যে অপরাধের শিকড় কতটা গভীরে প্রোথিত। এই ঘটনাটি এখন ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।