অভিষেকের নেতৃত্ব বয়কট, ৬৪ বিধায়কের নজিরবিহীন বিদ্রোহে আড়াআড়ি বিভাজনের মুখে তৃণমূল

অভিষেকের নেতৃত্ব বয়কট, ৬৪ বিধায়কের নজিরবিহীন বিদ্রোহে আড়াআড়ি বিভাজনের মুখে তৃণমূল

বিধানসভায় জাল স্বাক্ষর বিতর্ককে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের ফাটল এবার চরম রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই দলের একদা বিশ্বস্ত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা ৬৪ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি চিঠি জমা দিয়ে নজিরবিহীন চাল চাললেন। এই ঘটনার জেরে দলের চিরাচরিত এককেন্দ্রীক সাংগঠনিক কাঠামো বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে।

বিক্ষুব্ধ বিধায়করা স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি তাঁদের পূর্ণ আস্থা ও আনুগত্য রয়েছে। তবে দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব তাঁরা কোনওভাবেই মেনে নেবেন না। দীর্ঘদিন ধরে দল ও সরকারের ওপর অভিষেকের একচ্ছত্র প্রভাব এবং ‘কর্পোরেট কায়দায়’ দল পরিচালনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকেই এই বিদ্রোহের সূত্রপাত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সমান্তরাল সংসদীয় নেতৃত্ব গঠন ও দল ভাঙার আইনি কৌশল

নিজেদের আইনি ও সংসদীয় শাখায় প্রতিষ্ঠা করতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি সমান্তরাল নেতৃত্ব গঠন করেছে। চিঠিতে তারা বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা (LoP) এবং আখরুজ্জামানকে চিফ হুইপ হিসেবে মনোনীত করেছে। ৮০ আসনের তৃণমূল সংসদীয় দলে ৬৪ জন বিধায়ক একজোট থাকায় তারা দলত্যাগ বিরোধী আইনের খাঁড়া এড়াতে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশের (৫৩ জন বিধায়ক) গণ্ডি অনায়াসেই পার করে ফেলেছেন।

তৃণমূলের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্যই হলো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি বিক্ষুব্ধদের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, তবে আইনিভাবে তৃণমূলের নাম ও প্রতীকের ওপর দাবি জানানোর রাস্তা খোলা রাখল এই গোষ্ঠী। প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্রমবর্ধমান ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য রূপ নিল। এই গভীর ফাটল এবং ৬৪ জন বিধায়কের একজোট হওয়া আগামী দিনে রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *