ভয় ও ভরসার নাম এমবাপে, কঠিন গ্রুপ টপকে বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে কতটা প্রস্তুত ফ্রান্স

প্রথমবার ৪৮ দেশের মহাযুদ্ধে নামছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি ফ্রান্স। ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা গতবার ফাইনালে উঠেও স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়েছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সামনে একদিকে যেমন রয়েছে বিশ্বজয়ের হাতছানি, অন্যদিকে কোচ দিদিয়ের দেশঁর বিদায়বেলায় ট্রফি ধরে রাখার এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। এবারের টুর্নামেন্টে ‘আই’ গ্রুপে ফরাসিদের প্রতিপক্ষ নরওয়ে, সেনেগাল ও ইরাক, যা দলটিকে শুরুতেই এক কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে।
তারকাদের মেলা ও দেশঁর রণকৌশল
এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে দামি এবং ভারসাম্যপূর্ণ দল ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলেদের গতি এবং বায়ার্ন মিউনিখের মাইকেল অলিসের চমৎকার ফর্ম প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে কাঁপন ধরাতে যথেষ্ট। কোচ দিদিয়ের দেশঁ তাঁর দীর্ঘ ১০ বছরের অভিজ্ঞতা ও তারকা সামলানোর দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে এবার ঐতিহ্যবাহী ৪-৩-৩ ছক বদলে ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে দল সাজাতে পারেন। মাঝমাঠে অরেলিয়ান চুয়ামেনির শক্তিমত্তা এবং রক্ষণে উইলিয়াম সালিবার দুর্দান্ত উপস্থিতি ফরাসিদের মূল চালিকাশক্তি। গতি ও শক্তির এই সংমিশ্রণই টুর্নামেন্টে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও রক্ষণভাগের দুর্বলতা
তারকা ঠাসা দল হওয়ার সুবিধ যেমন আছে, তেমনি কিছু বড় দুর্বলতাও রয়েছে ফরাসি শিবিরে। দলের মূল চালিকাশক্তি কিলিয়ান এমবাপের ব্যক্তিগত অহং বা ‘ইগো’ দলীয় সংহতিতে বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমান দেম্বেলে এবার আর এমবাপের ছায়ায় ঢাকা থাকতে চাইবেন না, যা মাঠের রসায়নে প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া রক্ষণভাগে কুন্দের ফর্মহীনতা, হার্নান্দেজের চোটপ্রবণতা এবং উপামেকানোর আচমকা খেই হারানোর প্রবণতা ফ্রান্সের জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও বিশ্বজয়ের পথ
গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে নক-আউটে ফ্রান্সের পথ একেবারেই মসৃণ নয়। রাউন্ড অফ ১৬-তে জার্মানি, কোয়ার্টারে নেদারল্যান্ডস এবং সেমিফাইনালে স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে পারে তারা। অলিস বা তরুণ দেসিরে দুয়ের মতো এক্স-ফ্যাক্টররা যদি জ্বলে উঠতে পারেন এবং দলের অভ্যন্তরীণ অহং দূর করা সম্ভব হয়, তবে দেশঁর বিদায়লগ্নে ফ্রান্সের তৃতীয়বার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন পূরণ হওয়া আসাম্ভব কিছু নয়।