ভিন্দে মধুচক্রের নেপথ্যে এইডস আতঙ্ক, ব্ল্যাকমেলের শিকারদের খুঁজছে পুলিশ

ভিন্দে মধুচক্রের নেপথ্যে এইডস আতঙ্ক, ব্ল্যাকমেলের শিকারদের খুঁজছে পুলিশ

মধ্যপ্রদেশের ভিন্দ জেলায় একটি বড়সড় ব্ল্যাকমেলিং চক্রের পর্দাফাঁসের পর এবার জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে চরম এইচআইভি আতঙ্ক। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, মধুচক্রের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মূল অভিযুক্ত মহিলা আসলে এইচআইভি পজিটিভ। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ধৃত মহিলার ফাঁদে পা দেওয়া ব্যক্তিদের অজান্তেই শরীরে মারণ ভাইরাস প্রবেশ করেছে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র সংশয়। বাজেয়াপ্ত ডিভাইস থেকে ভুক্তভোগীদের চিহ্নিত করে দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও কাউন্সেলিংয়ের জন্য সন্ধান শুরু করেছে পুলিশ।

ফাঁদ পেতে ব্ল্যাকমেল ও ভাইরাসের বিস্তার

ঘটনার সূত্রপাত দেহাত এলাকার এক ৬০ বছর বয়সি কৃষকের অভিযোগের ভিত্তিতে। পায়ে ব্যথার অজুহাতে ওই বৃদ্ধের সাহায্য নিয়ে তাঁকে বাড়িতে ডাকেন অভিযুক্ত মহিলা। এরপর কৌশলে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ৭ লাখ টাকা দাবি করে ব্ল্যাকমেল শুরু করে চক্রের অন্য সদস্যরা। লোকলজ্জার ভয়ে ওই কৃষক জমি বিক্রি করে টাকা দেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে মূল অভিযুক্ত মহিলাসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করে। এরপরই ধৃত মহিলার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় জানা যায় তিনি গত তিন বছর ধরে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপির (এআরটি) অধীন থাকা একজন এইচআইভি রোগী।

সম্ভাব্য প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি

তদন্তকারীরা ধৃতদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি মোবাইল ও ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করেছেন, যেখানে একাধিক আপত্তিকর ভিডিও মিলেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ থেকে ১৬ জন ব্যক্তি এই চক্রের ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে অন্তত ৬ থেকে ৭ জন মহিলার সাথে সরাসরি শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন। ফলে তাঁদের মাধ্যমে এই মারণ রোগ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে বর্তমানে ২৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ এইচআইভি আক্রান্ত এবং প্রতি বছর ৬৬ হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আক্রান্তদের দ্রুত চিহ্নিত করা না গেলে স্থানীয় স্তরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *