চাকরির নামে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শ্রীঘরে মহিষাদলের প্রাক্তন বিধায়ক

গেঁওখালি জল প্রকল্পে চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন মহিষাদলের প্রাক্তন বিধায়ক তিলক চক্রবর্তী। বুধবার রাতে মহিষাদল থানার পুলিশ দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহিষাদলসহ রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করার পর, বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় পুলিশ এই পদক্ষেপ নেয়। আজ, বৃহস্পতিবার ধৃত প্রাক্তন বিধায়ককে আদালতে পেশ করা হচ্ছে।
একই দিনে কলকাতায় বড়বাজার থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মহেশ কুমার শর্মা। তাঁর বিরুদ্ধে গত বছর প্রতারণা ও জোরপূর্বক মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের (তোলাবাজি) অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে। এ ছাড়া, ফ্ল্যাট দখল ও শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদারকেও।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান ও রাজনৈতিক প্রভাব
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তৎপরতা নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকার প্রশাসনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইতিপূর্বেও প্রোমোটার ও ব্যবসায়ীদের হুমকি দিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে শচীন সিং, অরিজিৎ দাস ঠাকুর এবং সুদীপ পোল্লের মতো একাধিক বিদায়ী শাসকদলের কাউন্সিলর গ্রেপ্তার হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জল প্রকল্পের মতো জনকল্যাণমূলক কাজেও নিয়োগ দুর্নীতির এই ঘটনা জনমানসে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এই ধারাবাহিক গ্রেপ্তারি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সাথে, একের পর এক শীর্ষ স্তরের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও কাউন্সিলরদের শ্রীঘরে গমন বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কঠোর মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের আইনি ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরছে, অন্যদিকে পূর্বতন শাসক শিবিরের ওপর রাজনৈতিক ও নৈতিক চাপ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।