ভিড়ের দার্জিলিং-শিলং ছেড়ে এবার গরমে শান্তিময় ছুটির ঠিকানা আসামের উমরাংসু

চলতি মে-জুনের তীব্র দাবদাহে যখন দেশের সমতলভূমি পুড়ছে, তখন অধিকাংশ পর্যটকই ছুটছেন শিলং, দার্জিলিং বা গ্যাংটকের মতো চেনা পাহাড়ি শহরগুলোতে। এর ফলে সেখানে তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট, হোটেলের সংকট এবং অতিরিক্ত খরচ। এই চেনা ছকের বাইরে গিয়ে পর্যটকদের জন্য এক অনন্য বিকল্প হয়ে উঠেছে আসামের ডিমা হাসাও জেলার কোলে লুকিয়ে থাকা একমাত্র শৈলশহর উমরাংসু। ২২ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার এই অঞ্চলটি এখনও পর্যটকদের অতিরিক্ত কোলাহল থেকে মুক্ত, যাকে বলা চলে উত্তর-পূর্ব ভারতের এক ‘ভার্জিন’ বা অক্ষত স্বর্গভূমি।
পাহাড়, লেক ও ড্যামের মেলবন্ধন
উমরাংসুর প্রধান আকর্ষণ এর বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক ল্যান্ডস্কেপ। এখানকার কপিলি হাইডেল প্রজেক্টের বিশাল ড্যামটি কৃত্রিম হলেও এর চারপাশের পাহাড় ও সবুজ টিলার দৃশ্য সুইজারল্যান্ডের কথা মনে করিয়ে দেয়। ড্যামের জল ছাড়ার সময় তৈরি হওয়া কৃত্রিম জলপ্রপাত এবং মাত্র ১০০ টাকায় স্পিডবোট রাইডের অভিজ্ঞতা পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের। ড্যাম থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পাইন বনে ঘেরা গরমজল লেক, যার জল অত্যন্ত ঠান্ডা। লেকের সংলগ্ন সালফারযুক্ত হট স্প্রিং বা উষ্ণ প্রস্রবণের ঔষধি গুণের কারণে লোকমুখে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এছাড়া, ‘উমরাংসু হাওর’ নামক বিস্তীর্ণ জলাভূমি বর্ষার আগে সবুজ ঘাসের কার্পেটে ঢেকে যায়, যা ড্রোনের চোখে স্কটল্যান্ডের পার্বত্য অঞ্চলের অবয়ব ধারণ করে।
অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উপযোগিতা
উমরাংসু ভ্রমণের অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর স্বল্প খরচ এবং স্থানীয় সংস্কৃতি। গুয়াহাটির তুলনায় প্রায় অর্ধেক মূল্যে এখানে ডিমাসা, কার্বি ও নেপালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী খাবার, যেমন বাঁশের চোঙে রান্না করা মাংস ‘মাইজু’ বা ঐতিহ্যবাহী রাইস বিয়ার ‘জুদিমা’ পাওয়া যায়। মাত্র ৮০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে NEEPCO-র গেস্ট হাউস বা স্থানীয় হোমস্টেতে লেক-ভিউ রুম পাওয়া সম্ভব, যা মধ্যবিত্ত পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত সাশ্রয়ী। পাশাপাশি, মাত্র একদিনের ট্রিপে এখান থেকে কপিলি নদীর উপর অবস্থিত ‘মিনি নায়াগ্রা’ খ্যাত জলমুর জলপ্রপাত এবং ব্রিটিশ আমলের ঝুলন্ত সেতু সমৃদ্ধ মাহুর অঞ্চল ঘুরে আসা যায়।
যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ভ্রমণের সতর্কতা
গুয়াহাটি থেকে সরাসরি বাসে ৭-৮ ঘণ্টায় অথবা লামডিং জংশন রেল স্টেশন থেকে গাড়িতে ৩ ঘণ্টায় উমরাংসু পৌঁছানো যায়। এছাড়া পাহাড়ি শহর হাফলং থেকেও শেয়ার গাড়ি পাওয়া যায়। মার্চ থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর এখানে ভ্রমণের আদর্শ সময়। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বর্ষাকালে (জুলাই-আগস্ট) এই অঞ্চলটি অত্যন্ত ধসপ্রবণ হয়ে ওঠে। ফলে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও যাতায়াতের ঝুঁকি এড়াতে বর্ষার মরসুমে ভ্রমণকারীদের স্থানীয় প্রশাসন বা গেস্ট হাউসের মাধ্যমে রাস্তার পরিস্থিতি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।