আকাশ প্রতিরক্ষায় আরও শক্তিশালী ভারত, রাশিয়া থেকে এল চতুর্থ এস-৪০০ সুদর্শন

ভারতের দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করতে দেশটিতে এসে পৌঁছেছে রাশিয়ার চতুর্থ এস-৪০০ ‘সুদর্শন’ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের স্কোয়াড্রন। প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর অনুযায়ী, অত্যাধুনিক এই মিসাইল সিস্টেমটি জাহাজে করে ভারতে আনা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই এটিকে নির্দিষ্ট অপারেশনাল এলাকায় মোতায়েন করা হবে। এর ফলে ভারতের আকাশসীমা সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে এক বড়সড় অগ্রগতি ঘটল।
প্রতিরক্ষা চুক্তি ও সুদর্শন সিস্টেমের কার্যকারিতা
২০১৮ সালে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে পাঁচটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রন কেনার চুক্তি হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি স্কোয়াড্রন দুই বছর আগেই ভারতে চলে আসলেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাকি দুটি স্কোয়াড্রন সরবরাহ করতে কিছুটা দেরি হয়। ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় এই সুদর্শন সিস্টেমটি ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্বে থাকা পাকিস্তান বায়ুসেনার একটি নজরদারি বিমানকে সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল দিয়ে ধ্বংস করে এক অনন্য রেকর্ড গড়েছিল। আশা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পঞ্চম স্কোয়াড্রনটিও ভারতের হাতে চলে আসবে। ইতিমধ্যেই ডিফেন্স অ্যািশন কাউন্সিল (ডিএসি) আরও পাঁচটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রন কেনার ছাড়পত্র দিয়েছে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও দেশীয় উদ্যোগ
এই অত্যাধুনিক সিস্টেম মোতায়েনের ফলে ভারতের সীমান্ত অঞ্চলে শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং মিসাইল নজরদারির আওতায় আসবে, যা ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা অবস্থানকে বহুগুণ শক্তিশালী করবে। রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি ভারত ‘প্রোজেক্ট কুশা’ নামে একটি দেশীয় প্রকল্পেও কাজ করছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়ার সিস্টেমের মতোই দূরপাল্লার শত্রু ড্রোন ও মিসাইল ধ্বংস করতে সক্ষম সম্পূর্ণ দেশীয় এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম তৈরি করা, যেখানে উৎপাদন সহযোগী হিসেবে যুক্ত রয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা সংস্থা সোলার ইন্ডাস্ট্রিজ।