বিহারে হাসপাতালে বিধ্বংসী আগুন, রোগীদের ফেলে পালালেন চিকিৎসক ও কর্মীরা!

বিহারের একটি বহুতল হাসপাতালে ভোররাতে আচমকাই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার ভোর ৩টে ৫৫ মিনিট নাগাদ হাসপাতালের ছয়তলায় প্রথম আগুনের হলকা ও কালো ধোঁয়া দেখতে পান রোগীর আত্মীয় এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তবে এই চরম বিপদের মুহূর্তে রোগীদের জীবন বাঁচানোর পরিবর্তে হাসপাতালের চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁদের ফেলে রেখে নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যান বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের তৎপরতা ও ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি
হাসপাতালের ছয়তলায় অবস্থিত আইসিইউ বা নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে আগুন লাগার সময় সেখানে ১৫ জন আশঙ্কাজনক রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। আগুন লাগার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা এবং রোগীর আত্মীয়রা সাহসের সঙ্গে হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আইসিইউ এবং তার পাশের ঘরের জানলা ভেঙে রোগীদের বাইরে বের করে আনা হয়। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে তিন রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং ২০ জনেরও বেশি রোগী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকেরই অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গাফিলতির কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রাথমিক তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, হাসপাতালের এই ভয়াবহ পরিণতির পেছনে চরম গাফিলতি এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতা কাজ করেছে। আগুন লাগার পর হাসপাতালের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করেছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে জরুরি পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো বিপর্যয় মোকাবিলা প্রস্তুতি ছিল না। চিকিৎসক ও কর্মীদের এভাবে রোগীদের মৃত্যুর মুখে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের ভরসা সম্পূর্ণভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনার জেরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ এবং চিকিৎসকদের লাইসেন্স বাতিলের মতো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।