নারী নির্যাতন ও হুমকির অভিযোগে শ্রীঘরে বিশ্বজিৎ, কলকাতায় ধৃত পুরসদস্যের সংখ্যা বেড়ে ৪!

নারী নির্যাতন ও হুমকির অভিযোগে শ্রীঘরে বিশ্বজিৎ, কলকাতায় ধৃত পুরসদস্যের সংখ্যা বেড়ে ৪!

কলকাতায় শাসকদলের পুরপ্রতিনিধিদের গ্রেফতারির সিলসিলা বজায় রেখে এবার পুলিশের জালে জড়ালেন ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের হেভিওয়েট তৃণমূল কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ মণ্ডল। এক মহিলার দায়ের করা শ্লীলতাহানি ও হুমকির অভিযোগের ভিত্তিতে রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। এই নিয়ে গত কয়েক দিনে কলকাতা পুরসভার চারজন তৃণমূল কাউন্সিলর পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন, যা শহরের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

অভিযোগের পটভূমি ও গ্রেফতারি

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এক মহিলা সম্প্রতি রিজেন্ট পার্ক থানায় বিশ্বজিৎ মণ্ডলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারিণীর দাবি, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে এবং চলতি বছরের ৯ মে— দু’ দফায় তাঁর শ্লীলতাহানি করেছেন এই তৃণমূল কাউন্সিলর। শুধু তাই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা প্রয়োগ এবং গুরুতর হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নেমে পুলিশ তিন বারের এই প্রভাবশালী কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করে।

রাজনৈতিক গুরুত্ব ও প্রভাব

বিশ্বজিৎ মণ্ডল কলকাতার টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রভুক্ত ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধি। ২০১০, ২০১৫ এবং ২০২১ সালের পুরভোটে পর পর তিন বার তিনি এই ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক মহলে তিনি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা টালিগঞ্জের প্রভাবশালী নেতা অরূপ বিশ্বাসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ফলে তাঁর এই গ্রেফতারি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের ভাবমূর্তিকে বড়সড় ধাক্কা দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

পুরসভায় অস্বস্তি ও আইনশৃঙ্খলার কড়াকড়ি

বিশ্বজিতের গ্রেফতারির ফলে কলকাতা পুরসভায় শাসকদলের অন্দরে অস্বস্তি চরম আকার ধারণ করেছে। এর আগে গত ২৩ মে তোলাবাজির অভিযোগে ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সুদীপ পোল্লে, ২ জুন ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের শচীন সিংহ ও ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের অরিজিৎ দাস এবং সর্বশেষ বুধবার ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের মহেশকুমার শর্মা গ্রেফতার হন। একের পর এক কাউন্সিলরের এভাবে আইন শৃঙ্খলার জালে জড়ানোয় পুরপ্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, তেমনই অপরাধমূলক কাজের বিরুদ্ধে পুলিশের এই কঠোর অবস্থান শহরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এক কড়া বার্তা দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *