নরেন্দ্র মোদির কুরসি কি টলমল? ১ বছরও প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না, বিস্ফোরক দাবি রাহুলের

ভারতের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে চরম উত্তাপ ছড়িয়ে এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আর এক বছরও নিজের কুরসিতে টিকতে পারবেন না। বুধবার কংগ্রেসের আদিবাসী সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় তিনি স্পষ্ট জানান, যে প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় ‘সিস্টেম’ একসময় নরেন্দ্র মোদি এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন, তা এখন ভেতর থেকে ভেঙে পড়েছে এবং সেই ব্যবস্থার অন্দর থেকেই এখন খোদ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তথ্য ফাঁসের হিড়িক উঠেছে।
ভিতর থেকে ভাঙছে মোদির দুর্গ
রাহুল গান্ধীর দাবি অনুযায়ী, দেশের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা, তদন্তকারী দপ্তর এবং খোদ নির্বাচন কমিশনের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রাতিষ্ঠানিক প্রধানদের অফিস থেকে তাঁর কাছে নিয়মিত বার্তা ও গোপন তথ্য পাঠানো হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালসহ তাঁদের সন্তানদের নানা কর্মকাণ্ডের ভেতরের খবর এখন বিরোধীদের হাতে আসছে। বিরোধী দলনেতার মতে, এই পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রীকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে এবং জনরোষ ও রাজনৈতিক বিপর্যয় থেকে বাঁচতে মোদি আগামী দিনে দেশে জরুরি অবস্থার মতো কোনো কঠোর বা অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপও নিতে পারেন।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্য ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে এক বড়সড় ঝড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমান সরকারের অর্থনীতি পরিচালনা, জ্বালানি সংকট এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার অব্যবস্থা নিয়ে এমনিতেই শাসক শিবির তীব্র জনরোষের মুখে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যদি সত্যিই রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার অন্দরমহল থেকে বিরোধীদের কাছে তথ্য পাচার হতে শুরু করে, তবে তা মোদি সরকারের অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক অশনিসংকেত।
অন্যদিকে, এই ঘটনা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে। সরকারের ভেতরের তথ্য এভাবে বিরোধী শিবিরে চলে যাওয়া কতটা আইনসম্মত, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, এটি সরকারের বিরুদ্ধে কোনো পরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ হতে পারে, যা শাসক দল বিজেপির দীর্ঘদিনের অভিযোগকে আরও উসকে দেবে। শেষ পর্যন্ত এই প্রাতিষ্ঠানিক সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয় এবং মোদি সরকার এই অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ কীভাবে মোকাবিলা করে, তার ওপরই নির্ভর করছে দিল্লির মসনদের ভবিষ্যৎ।