সন্তানদের সামনে ফরাসি তরুণীকে গণধর্ষণ, পাক আদালতে দুই যুবকের মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল

পাকিস্তানে দুই সন্তানের সামনে ফরাসি তরুণীকে গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত দুই যুবকের মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল রেখেছে দেশটির উচ্চ আদালত। বুধবার লাহোর হাই কোর্ট অপরাধীদের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করে পূর্ববর্তী আদালতের দেওয়া ফাঁসির রায় বহাল রাখার নির্দেশ দেয়। আদালতের এই অনড় সিদ্ধান্তকে দেশে নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হাইওয়ের ভয়াবহতা ও নির্মম অপরাধ
ঘটনাটি ২০২০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাতের। আক্রান্ত ফরাসি তরুণী তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে লাহোর থেকে গুজরানওয়ালা প্রদেশের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে লাহোর হাইওয়েতে আচমকা তাঁর গাড়ির জ্বালানি ফুরিয়ে যায়। বিপদের গুরুত্ব বুঝে তরুণী তাঁর স্বামীকে ফোন করেন এবং পরামর্শ অনুযায়ী স্থানীয় পুলিশের সহায়তা চান। কিন্তু পুলিশের টহলদারি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সেখানে হানা দেয় আবিদ আলি এবং শাফকাত আলি নামের দুই স্থানীয় যুবক। তারা গাড়ির জানলার কাচ ভেঙে ওই তরুণীকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে এবং তাঁর অবোধ শিশুদের সামনেই পাশবিক নির্যাতন চালায়। বর্বরতা শেষে অপরাধীরা তরুণীর নগদ টাকা, গয়না এবং তিনটি এটিএম কার্ড লুট করে চম্পট দেয়।
তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার প্রভাব
দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের পর পুলিশি অভিযানে ধরা পড়ে দুই অভিযুক্ত। ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নিজেদের অপরাধ স্বীকারের পর ২০২১ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানের একটি বিশেষ সন্ত্রাসদমন আদালত আবিদ ও শাফকাতকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়। নিম্ন আদালতের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আসামিপক্ষ লাহোর হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। উচ্চ আদালত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে সাজা কমানোর আর্জি সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাসড়কে নিরাপত্তা ও পুলিশি নজরদারির গাফিলতির কারণে সে সময় পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি মারাত্মক ক্ষুণ্ণ হয়েছিল। বর্তমান এই কঠোর বিচারব্যবস্থা এবং দ্রুত সাজা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ দমনে বড় প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে এবং হাইওয়েগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে প্রশাসনকে বাধ্য করবে।