অবৈধ বালি ও কয়লা পাচারের সাম্রাজ্যে ভাঙন, দুর্গাপুরে শ্রীঘরে প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা

খনি অঞ্চলের অবৈধ কয়লা কারবার এবং অজয় নদের বালি পাচার চক্রের বিরুদ্ধে অবশেষে বড়সড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সকালে দুর্গাপুর-ফরিদপুর থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন গোগলা অঞ্চলের প্রভাবশালী তৃণমূল সভাপতি গৌতম ঘোষ। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে বালি ও কয়লা পাচারের পাশাপাশি এলাকায় সিন্ডিকেট রাজ ও খনি অঞ্চলে সন্ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ উঠছিল। পুলিশ ধৃত নেতাকে হেফাজতে নিয়ে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
পাচারের জাল ও প্রশাসনিক নীরবতা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অজয় নদ থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন গৌতম ঘোষ। দিনের পর দিন এই প্রাকৃতিক সম্পদ লুট হলেও এতদিন প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। শুধু বালি নয়, খনি এলাকা থেকে অবৈধ উপায়ে কয়লা সরিয়ে তা পাচারকারী চক্রের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পেছনেও তাঁর সরাসরি প্রভাব ছিল। গৌতমের এই একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে এলাকায় তীব্র জনক্ষোভ তৈরি হলেও, তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব এবং সন্ত্রাসের ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পাননি।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদল তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। বিরোধী শিবিরের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা, বিরোধী কর্মীদের ওপর হামলা এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর নেপথ্যেও এই নেতার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। মূলত এলাকায় গড়ে ওঠা অপরাধমূলক সিন্ডিকেটের প্রধান নিয়ন্ত্রক ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রভাবশালী নেতার পতন খনি অঞ্চলের অবৈধ কারবারের চেইন ভেঙে দিতে পারে এবং এর ফলে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেমন উন্নতি ঘটবে, তেমনই শাসকদলের ভাবমূর্তিও বড়সড় ধাক্কা খাবে।